google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় জেনে নিন - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Sunday, September 7

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় জেনে নিন

অন্যদের তুলনায় আপনি কোনো অংশে কম না থাকলেও তাদের মতো করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেকে জাহির করতে পারেন না? আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। আপনি যদি আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভোগেন তাহলে এ লেখায় দেওয়া পদ্ধতিগুলো চর্চা করুন। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে এ পদ্ধতিগুলোর তুলনা হয় না। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।

১. সোজা হয়ে দাঁড়ান
সঠিক অঙ্গভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়ালে তা আপনার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সোজা হয়ে দাঁড়ালে তা আপনার মনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং এর প্রভাবে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।


২. র‌্যাপ সঙ্গীতের অনুপ্রেরণা
আপনি যদি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন তাহলে হাতের কাছে র‌্যাপ সঙ্গীত রেডি রাখুন আর প্রয়োজনের মুহূর্তে চেপে দিন ‘প্লে’ বাটনটি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানাচ্ছেন, ভারি টিউনযুক্ত সংগীত আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।
৩. আত্মবিশ্বাসী মুহূর্ত স্মরণ করুন
অতীতে আপনার নানা সফল কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করুন। সফল কোনো বক্তব্য, দারুণ একটা চাকরির ইন্টারভিউ, প্রকাশিত একটি দারুণ নিবদ্ধ কিংবা এ ধরনের কোনো বিষয়, যার কথা মনে করলে নিজে নিজেই গর্ববোধ করতে পারেন। সফল এসব বিষয় স্মৃতি থেকে হারাতে দেবেন না। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে।
৪. ঠিকভাবে শুরু করুন সকাল
সকালে আপনার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ঠিকভাবে সম্পন্ন করুন। ঘুম থেকে উঠেই হন্তদন্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি বাদ দিন। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ আগেই উঠে পড়ুন। এরপর সময় নিয়ে রেডি হোন। সকালটা ঠিকভাবে শুরু করতে পারলে তা আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে।
৫. ভালোভাবে পোশাক পরুন
ভালোভাবে পোশাক পরলে তা আপনাকে অন্যের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করে। এতে অন্যরাই যে শুধু আপনাকে দাম দেয় তা নয়, এতে আপনার নিজের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যায়। আর তাই ভালোভাবে পোশাক পরে বাড়িয়ে নিন আপনার আত্মবিশ্বাস।
৬. প্রিয় তারকাকে অনুকরণ করুন
প্রিয় যে তারকাকে আপনার যথেষ্ট সফল বলে মনে হয়, তাকে অনুকরণ করুন। তার মতো করে নিজেকে কল্পনা করুন।
৭. স্ট্রেচ করুন
স্ট্রেচ বা মাসল টানটান করে শারীরিক অনুশীলন করুন। এতে আপনার সঠিক অঙ্গভঙ্গিতে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়বে, রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখবে ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এ ছাড়াও স্ট্রেচ আপনাকে শান্ত করতে ভূমিকা রাখবে।
৮. নতুন ভাষা শিখুন
নতুন কোনো ভাষা শেখা বা কোনো দক্ষতা আয়ত্ব করা অনুশীলন করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে তেমন কর্মক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।

আত্মবিশ্বাস আর প্রেরণা একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দুয়ের সম্মিলনেই সফলতা আসে জীবনে। কিন্তু আমাদের সমাজে গোমড়া মুখে ঘুরে বেড়ানো মানুষেরও অভাব নেই। এদের ভিড়ে আত্মবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা কম হলেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আত্মবিশ্বাসীদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। সেসব দেখে চিনে নিতে পারেন আপনার আশপাশের আত্মবিশ্বাসীদের। পাশাপাশি নিজের জীবনে সেসবের চর্চায় আপনিও হয়ে উঠুন আত্মবিশ্বাসী।

শরীরী ভাষা
অনেকেই আছেন যাঁরা সামনে থাকা মানুষটির সঙ্গে কোনো বাক্যবিনিময় ছাড়াই তাঁর সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যান। আত্মবিশ্বাসীরা অন্যদের প্রভাবিত করেন তাঁদের শরীরী ভাষার মাধ্যমে। তাঁরা সাধারণত স্থির স্বভাবের। হাঁটাচলাই করুন বা বসেই থাকুন, তাঁদের শরীরী ভঙ্গিমা দেখেই অন্যরা বুঝতে পারবেন তাঁর বিশেষত্ব। এক দল লোকের মধ্য থেকে সহজেই তাঁকে আলাদা করতে পারবেন আপনি। আত্মবিশ্বাসীরা যখন যার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন।

সংক্রামক হাসি
আত্মবিশ্বাসী মানুষ জীবনের সব মুহূর্তেই ইতিবাচক থাকেন। এরা খুব একটা ভেঙে পড়েন না। ভালো অনুভূতি এবং নিজের জীবনের হাসি-আনন্দও তাঁর চারপাশে থাকা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন আত্মবিশ্বাসীরা। এমনকি অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বললেও এঁরা নিজের আত্মবিশ্বাসটাকে ওই মানুষটির মধ্যে ছড়িয়ে দেন। খুব বেশি মাত্রায় আত্মবিশ্বাসীরা অপরিচিত লোকদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, হাসতে পারার ক্ষমতাই তাঁদের ইতিবাচক জীবনযাপনে সাহায্য করে। তাই হাসি-খুশি থাকুন। চারপাশের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করুন। দেখবেন ভেতর থেকে ভালো লাগা কাজ করছে এবং ভালো থাকতে পারছেন।

তাঁরা অন্যের মনে ব্যথা দেন না
আত্মবিশ্বাসী মানুষ আরেকজন মানুষের নেতিবাচক দিক নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। কারণ তাঁরা নিজেদের নিয়েই থাকেন। বরং তাঁরা প্রিয়জনকে সহযোগিতা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কারোর ব্যাপারে কথা বলার সময় অনেক হিসাব করে কথা বলেন। পেশাগত জীবনই হোক বা ব্যক্তিজীবন, আত্মবিশ্বাসীরা নিজের কাজের বিষয়ে সব সময় মনোযোগী থাকেন।

যোগাযোগের সূতিকাগার
এটা সত্যি যে অপরিচিত কারোর সঙ্গে কথা বলতে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসীরা এ বিষয়ে উল্টো পথের যাত্রী। তাঁরা মনে করেন, অপরিচিতদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হলে কিংবা কথা বললে নতুন কোনো কাজ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। তাই নতুন কারোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর প্রয়োজনে তাঁরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

ভিন্ন কিছু করা
আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি অনেক সময় এমন কিছু করেন যেটা অন্যদের চোখে স্বাভাবিক মনে না-ও হতে পারে। মূল কথা, তিনি আসলে নতুন কিছু করতে মোটেও ভয় পান না। জীবনের জটিল কোনো সময়ে তিনি ভেঙে না পড়ে এমন কিছু করেন যেটি তাঁকে সফলতা এনে দেয়। আত্মবিশ্বাসী মানুষ জানেন এটি অস্বাভাবিক, তবে তিনি এ-ও জানেন, তিনিই সেরা!
অন্যকে মূল্যায়ন করা
নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করতে হলে আত্মবিশ্বাসী মানুষজন যা করেন সেটির চর্চা করুন। আত্মবিশ্বাসীরা অন্য কেউ ভালো কিছু করলে সেটির বাহবা দিতে ভুল করেন না। অন্যের কাজের মূল্যায়ন তাঁরা ঠিকভাবেই করেন।

হাসি মুখে প্রশংসা গ্রহণ
আত্মবিশ্বাসী মানুষ কেউ প্রশংসা করলে হাসি মুখেই তা বরণ করেন। এটি তাঁর স্বভাবে থাকা বন্ধুসুলভ আচরণের প্রকাশ। অনাকাঙ্ক্ষিত কারও কাছ থেকে প্রশংসা পেলে হাসি মুখে সেটা নিতে না পারলেও এ জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভোলেন না ।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.