google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html হিজাব বা পর্দা - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Sunday, September 14

হিজাব বা পর্দা

আপনি কি জানেন ‘হিজাব’ কী? হিজাব কেমন হতে হবে এবং এর মূল শর্তাবলী কী ? আর এ ব্যাপারে আপনার অজ্ঞতায় ক্ষতিই বা কী ? আপনি কি হিজাব নিয়ে ভেবে দেখেছন , ‘কে’ একে ফরয বা বাধ্যতামূলক করেছেন ? কেনই বা ফরয করেছেন ? আর তা হওয়া চাই কেমন ? 



হিজাব কোনো প্রতীক নয়, ফ্যাশনের উপকরণ কিংবা সৌন্দর্য বর্ধনের সামগ্রীও নয়। হিজাব এক অবশ্য পালনীয় বিধান। আল্লাহ এ হিজাব ফরয করেছেন রাসুলে আকরাম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর ওপর। এর প্রবর্তক আমরা কেউ নই, খোদ পুরুষ নারীর স্রষ্টা মহান আল্লাহ পাক।
অতএব, এ বিষয়ে আমরা ভিন্ন মত দিতে পারি না। পারি না নতুন কিছু আবিষ্কার করতে। পারি না এর কোনো বিকল্প উদ্ভাবন করতে । 



আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য নিজদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না, আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।
[সূরা আল-আহযাব, আয়াত : ৩৬]
হিজাব বা পর্দা ফরয হওয়া সম্পর্কে এত বেশি আয়াত ও হাদীস উল্লেখিত হয়েছে এবং এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও রূপরেখা সম্পর্কে এত বাণী ও বক্তব্য বিদ্যমান যে এ নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবা ও প্রচারের যৌক্তিকতা নেই।

ইসলামে পূর্ণ পর্দার শর্তগুলো নিম্নরূপ,
প্রথম শর্ত : প্রথম শর্ত হলো দেহের সীমানা যা যতটুকু-অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। নারী ও পুরুষের জন্য এটা ভিন্ন ভিন্ন। পুরুষের জন্য ঢেকে রাখার বাধ্যতামূলক পরিসীমা তার দেহের নুন্যতম নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। নারীর জন্য এই পরিসীমা আরো বিস্তৃত- কব্জি পর্যন্ত হাত এবং মুখমন্ডল ছাড়া বাদবাকি শরীরের সকল অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। তারা যদি চায় তাহলে তা-ও আবৃত করে নিতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে – যদি ফিতনার আশংকা থাকে, তবে ইসলামের বিশেষজ্ঞ আলেমগণের অনেকেই হাত ও মুখমন্ডলকেও বাধ্যতামূলক ঢেকে রাখার অংশ মনে করেন।
বাদবাকি পাঁচটি শর্ত নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে একই রকম প্রযোজ্য।
দ্বিতীয় শর্ত : হিজাব নিজেই সৌন্দর্যবর্ধক না হওয়া। যেমন হিজাব এতটা আকর্ষণীয় রঙের হওয়া যাবে না যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। পর্দা যখন খোদ নিজেই সৌন্দর্যের আকার ধারণ করবে, তা প্রকাশ বৈধ হবে না। তাকে হিজাব বা পর্দাও বলা হবে না। কারণ, হিজাব তো সেটিই যা বেগানার (পর পুরুষ) সামনে সৌন্দর্য প্রকাশে অন্তরায় সৃষ্টি করে। সুতরাং বোরকা পরেও যারা নিজের সৌন্দর্য প্রকাশে আগ্রহী, তারা যেন বিষয়টি ভেবে দেখবেন। সত্যিকারার্থে পর্দা রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ হয়ে তারা যেন সৌন্দর্য আড়ালকারী রঙকে অগ্রাধিকার দেন। পাশাপাশি তারা যেন জাঁকজমককেও এড়িয়ে যান।
তৃতীয় শর্ত : মোটা ও পুরু হওয়া যাতে দেহ ও সৌন্দর্য দৃশ্যমান না হয়। কারণ পোশাক যদি আড়ালকারী না হয় তবে তাকে হিজাব আখ্যায়িত করা যায় না।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
জাহান্নামবাসী দুটি দল রয়েছে। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। একদল এমন লোক যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে যা দিয়ে তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আর অন্য দল এমন নারী যারা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকে। তারা অন্যদের তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে নিজেরাও অন্যদের প্রতি ঝুঁকবে। তাদের মস্তক উটের পিঠের কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ এর ঘ্রাণ এত এত দূর থেকেও পাওয়া যায়।
[সহীহ মুসলিম : ২১২৮]
চতুর্থ শর্ত: প্রশস্ত ও ঢিলেঢালা হওয়া এবং সংকুচিত ও অন্তর্শোভা পরিদৃশ্যকারী না হওয়া। যাতে দেহের অঙ্গের আকার বা অবয়ব দৃশ্যমান না হয়। এটিও পূর্বে বর্ণিত হাদীসের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
পঞ্চম শর্ত: বিপরীত লিঙ্গের (পুরুষের/নারীর) পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেসব পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন যারা নারীদের পোশাক পরে এবং সেসব নারীকে অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের পোশাক পরিধান করে। [সুনান আবূ দাঊদ : ৪০৯৮]
ষষ্ঠ শর্ত : কোনো বিধর্মীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া। কেননা ইসলামী শরীয়ত বিধর্মীর সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছে। পোশাক ও সংস্কৃতিতে তাদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করেছে।
সর্বোপরি আমাদের মনে রাখতে হবে, অন্যান্য জিনিসের মধ্যে আচার আচারণও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত।
পূর্ণাঙ্গ পর্দা ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র, আচার আচারণ, অভিব্যক্তি এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকেও একীভূত করে। একজন ব্যক্তি সে যদিও শুধু কাপড়-চোপড়ে হিজাব পালন করে তাহলে সে হিজাব পালক করলো ন্যূনতম পর্যায়ের।
পোশাকের পর্দা পালনের সাথে সাথে চোখের পর্দা, মনের পর্দা ,চিন্তা ভাবনার পর্দা এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্যের পর্দাও থাকতে হবে। পর্দার সীমার মধ্যে আরো যা পড়ে, তা হলো – ব্যক্তির চলা, কথা বলা এবং তার সার্বিক আচরণ ইত্যাদি।
আপনি যতদিন নিজেকে পর্দাকারী দেখতে পছন্দ করেন, নিজেকে তাদের কাতারে দেখতে চাইবেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি তালাশ করে, আপনার দায়িত্ব হবে – ঠিক সেভাবে পর্দা পরা যেভাবে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।
অবশ্যই তেমন নয় যেমন যুগ বা সমাজ চায় কিংবা আমাদের মন টানে।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পদ্ধতিতে কাম্য পর্দা করবার তাওফীক দান করুন। আমীন !

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.