google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html গভীর সমুদ্রের মাছে বিষাক্ত জৈবিক মার্কারি ! - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Wednesday, September 3

গভীর সমুদ্রের মাছে বিষাক্ত জৈবিক মার্কারি !

সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো এটা সত্যি। কিন্তু এটাও সত্যি যে সাগরের মাছ এবং চিংড়িতে থাকতে পারে মার্কারি(পারদ) এবং আর্সেনিক সহ বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ। বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবার মাধ্যমে পারদ সাগরে এসে পড়ে এবং মাছেদের খাদ্যচক্রের অংশ হয়ে যায়। ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই এবং ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান এর গবেষকরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, সমুদ্রের যত গভীরে যাওয়া যায়, মাছের শরীরে পারদ জমা হওয়ার পরিমাণ তত বাড়ে।Nature Geoscience জার্নালে এই গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়।

কিছু বছর আগের এক গবেষণায় মানোয়ার ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই এর গবেষকরা দেখেছিলেন গভীর সমুদ্রের শিকারি মাছগুলোর শরীরে তুলনামুলকভাবে বেশি পারদ জমে থাকে। কিন্তু সে সময় তারা এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। “দেখা গেছে যে, সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত জৈবিক এবং খনিজ পারদের পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছে কম থাকে এবং গভীর সমুদ্রে বেশি থাকে” বলেন আনেলা চই, ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই এর ওশেনোগ্রাফির একজন পিএইচডি ক্যান্ডিডেট। “আমরা এক ঘটনাটা ঘটতে দেখেছি পানিতে এবং মাছের শরীরে। কিন্তু আমরা এর ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছি না এবং জৈবিকভাবে সহজলভ্য পারদ মাছের খাদ্য চক্রে কি করে প্রবেশ করছে সে সম্পর্কেও আমরা নিশ্চিত নই”।

সমুদ্রের ব্যাকটেরিয়াগুলো বায়ুমণ্ডলের পারদকে রুপান্তর করে জৈবিক মনোমিথাইল মার্কারিতে যেটা মাছের শরীরে জমা হয়। প্রথমে ছোট মাছগুলোর শরীরে জমা হয় এই পারদ। পরে অনেকগুলো ছোট মাছ খাওয়ার ফলে বড় শিকারি মাছগুলোর শরীরে জমা হয় অনেকখানি মনোমিথাইল মার্কারি। গবেষকরা দেখেন, সাগরের গভীরতার সাথে ওই গভীরতায় শিকার করে খাওয়া মাছগুলোর শরীরে জমা থাকা পারদের পরিমাণের সম্পর্ক আছে। এছাড়াও খাদ্য শৃঙ্খলে মাছটির অবস্থান কোন স্থানে তার উপরেও নির্ভর করে মাছটির শরীরের মনোমিথাইল মার্কারির পরিমাণ।

সাম্প্রতিক গবেষণাটিতে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠে আলোক-রাসায়নিক (Photochemical) বিক্রিয়ার কারণে আলোর উপস্থিতিতে ভেঙ্গে যায় মনোমিথাইল মার্কারি এবং তখন আর মাছ সেগুলো খেতে পারে না। দেখা যায়, সূর্যালোকের উপস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য-দক্ষিনাংশের উপরিভাগে প্রায় ৮০ শতাংশ মনোমিথাইল মার্কারি লুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু গভীর সাগরে সূর্যালোক এবং অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে বেশি পরিমানে মনোমিথাইল মার্কারি তৈরি হয় এবং সামুদ্রিক খাদ্য চক্রে ঢুকে পড়ে।

“হাওয়াই এর আশপাশের পরিষ্কার, স্বচ্ছ পানি এবং এখানকার মাছগুলোর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জ্ঞান থাকার কারণে আমরা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে পেরেছি যে সমুদ্রপৃষ্ঠে আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে মনোমিথাইল মার্কারি কমে যায় এবং গভীর জলে মাইক্রোবিয়াল কার্যকলাপের জন্যে অজৈবিক পারদ থেকে মনোমিথাইল মার্কারি তৈরি হয়”, বলেন ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই এর ভূতত্ত্ব এবং ভূপ্রকৃতিবিদ্যার অধ্যাপক ব্রায়ান পপ।

এ তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে এই বিষাক্ত মনোমিথাইল মার্কারি উৎপাদন হবার কারণে অদূর ভবিষ্যতে পুরো প্রশান্ত মহাসাগরে এর পরিমান বৃদ্ধি পেতে পারে। গবেষকদের মতে, এ বিষয়ে জ্ঞান অনেকটা উপকার করবে সেসব মানুষের যারা মাছ খেতে পছন্দ করেন। তবে হাওয়াই এর মত একটা জায়গা যেখানে মানুষের মূল খাদ্যই হল মাছ, সেখানে এ গবেষণাটি একেবারেই অমূল্য। সোর্ড ফিশ এবং টুনা জাতীয় গভীর পানির মাছ খেলে মানুষের শরীরে আসতে পারে মনোমিথাইল মার্কারি এবং স্নায়ুতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড এবং দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি করতে পারে। এমন পারদযুক্ত মাছ খাওয়ার পাশাপাশি পারদযুক্ত পণ্য নিয়ে কাজ করলেও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।

সমুদ্রে পারদ জমা হওয়ার ফলে মাছের দেহে এটি কি পরিবর্তন আনতে পারে সেটি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পার এই গবেষণাটি। “আগামী কয়েক শতকে প্রশান্ত মহাসাগরে পারদের পরিমানে পরিবর্তন আসবে এবং গভীর এবং অগভীর পানিতে এই পরিবর্তনের পরিমাণ ভিন্ন হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে,” বলেন পপ। “মাছের শরীরে এটা জমা হওয়া এবং মানুষের খাদ্যে প্রবেশ করার ব্যাপারে জানতে হলে আমাদের আগে বুঝতে হবে সেই সব প্রক্রিয়াগুলো যার মাধ্যমে মনোমিথাইল মার্কারি সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতায় উৎপাদন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়”।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.