বাংলাদেশের অবস্থান দশম
বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি আত্মহত্যা
প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ আত্মহত্যা করছে। প্রতিবছর আত্মহত্যাজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা আট লাখ, যার ৭৫ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলোয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণাটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান বলেছেন, আত্মহত্যার মতো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার জন্যই মূলত এ গবেষণা। বহু বছর ধরে নানা কুসংস্কারের কারণে বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মহত্যায় গোটা বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, বাংলাদেশের অবস্থান দশম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় আত্মহত্যার হার বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশি। ভারতে প্রতি দুই মিনিটে একজন আত্মহত্যা করে। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ। আর বাংলাদেশে তা ১০ হাজার ১৬৭ জন। এদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৭৩ জন নারী ও চার হাজার ৩৯৪ জন পুরুষ।
প্রতিবেদনে আত্মহত্যা প্রতিরোধে আত্মহত্যা করতে যেসব পদ্ধতি বহুল প্রচলিত, সেগুলোর সহজলভ্যতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, সংবাদমাধ্যমকে এমন ভাষা পরিহার করতে হবে, যা অন্যকে আত্মহত্যায় উৎসাহী করে তোলে। এ ছাড়া আত্মহত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনাও এড়িয়ে চলতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে কীটনাশক খেয়ে, ফাঁসিতে ঝুলে বা পিস্তলের গুলিতে বেশির ভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আত্মহত্যার উপকরণগুলোর সহজলভ্যতা কমিয়ে আনা হয়েছে। এর সুফলও পাওয়া গেছে। অন্য আরেকটি উপায় হলো, প্রতিটি দেশের সরকারকে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭০টি দেশের মধ্যে মাত্র ২৮টি দেশে এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা আছে।
ডব্লিউএইচও বলছে, সাধারণত ৭০ বছর বয়সী বা যাঁদের বয়স ৭০-এর ওপর, তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। তবে কিছু কিছু দেশে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি। আন্তর্জাতিকভাবে আত্মহত্যা ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় শীর্ষ কারণ।
সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি। ধনী দেশগুলোয় নারীদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহত্যার হার তিন গুণ পর্যন্ত বেশি। পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষেরা থাকেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে তরুণ ও বয়স্ক নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি। সত্তরোর্ধ্ব নারীদের আত্মহত্যার হার ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
২০১৩-২০ সাল মেয়াদে ডব্লিউএইচও ১০ শতাংশ হারে আত্মহত্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ১৭০টি সদস্যরাষ্ট্র এ ব্যাপারে অঙ্গীকারও করেছে।


No comments:
Post a Comment
Thank you very much.