google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html আক্ষেপ বাড়িয়ে দিলেন ডি মারিয়া - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Thursday, September 4

আক্ষেপ বাড়িয়ে দিলেন ডি মারিয়া

প্রতিশোধ ? বদলা ? যতই রং চড়ানোর চেষ্টা করুন, শব্দগুলো বিশ্বকাপ ফাইনালের সঙ্গে যায় না। বিশ্বকাপ ফাইনালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের কোনো তুলনা হয় নাকি? জার্মানির সঙ্গে ৪-২ গোলের জয়ে তাই মারাকানার হারের ক্ষতে সামান্য প্রলেপ ছাড়া আর কিছু পড়বে না।

পরশু আলেসান্দ্রো সাবেলা ডাগ-আউটে ছিলেন না। হয়তো আর্জেন্টিনায় নিজের বাসায় টিভিতে খেলাটা দেখেছেন। একটা আক্ষেপও নিশ্চয়ই বুকে বড় বেজেছে আর্জেন্টিনার সাবেক কোচের? ফাইনালে যদি পুরো ফিট অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে পেতেন! পরশুর খেলা দেখে সব আর্জেন্টাইনেরই সঙ্গী হয়েছে আসলে এই আক্ষেপ, ‘ইস্! ডি মারিয়া যদি মারাকানায় থাকতেন!’ একটা গোল করেছেন, তিনটি করিয়েছেন, বলতে গেলে ডি মারিয়ার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছে জার্মানি।
লিওনেল মেসি ছিলেন না, হিগুয়েইন, লাভেজ্জিরাও না। ডি মারিয়া যেন ঠিক করে রেখেছিলেন ডুসেলডর্ফের মঞ্চ একাই আলোকিত করবেন। ২০ মিনিটেই বাঁ পায়ের যে অসাধারণ বল বাড়ালেন, সেটা জালে জড়িয়ে দিতে কোনো কষ্টই হলো না আগুয়েরোর।
তবে আরেকজন চাইলে এর আগেই মঞ্চটা নিজের করে নিতে পারতেন। মারিও গোমেজ যেমন খেলেছেন, জাতীয় দলে আবার কবে ডাক পান সন্দেহ! প্রথমার্ধেই গোটা তিনেক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন জার্মান স্ট্রাইকার। একবার তো ফাঁকায় পেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বল মেরেছেন বাইরে। তবে জার্মানিকে এই আফসোস নিয়ে পড়ে থাকতে দেননি ডি মারিয়া, ম্যাচে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে যেন মরিয়া ছিলেন তিনি। ৪০ মিনিটে আবারও তাঁর ঝলক। এবার গোল করালেন এরিক লামেলাকে দিয়ে। বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন টটেনহামের তরুণ উইঙ্গার।
বিরতির আগে যেখানে শেষ করেছিলেন, ডি মারিয়া দ্বিতীয়ার্ধে শুরু করলেন সেখান থেকেই। ফ্রি-কিক থেকে গোল করালেন ফেদেরিকো ফার্নান্দেজকে দিয়ে। তবে ম্যাচের সেরা মুহূর্তটা জমিয়ে রেখেছিলেন নিজের জন্যই। দুর্দান্ত এক দৌড়ে মাচেরানোর থ্রুটা ধরে তার চেয়েও দারুণ এক চিপ করে বল জড়িয়ে দিলেন জালে। ম্যাচের তখন মাত্রই ৫০ মিনিট।
তখনই প্রশ্নটা নিশ্চিত করেই জেগেছে আবারও, বিশ্বকাপ ফাইনালে ডি মারিয়া থাকলে কী হতো? আর্জেন্টিনার নতুন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো স্বীকার করলেন, ‘ফাইনালে ওর অভাব বোঝা গিয়েছিল। এ মুহূর্তে সে বিশ্বের সেরা চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন। ওর পারফরম্যান্সে তাই আমি অবাক হইনি।’
জোয়াকিম লো অবশ্য সেটা মানতে রাজি হলেন না, ‘ডি মারিয়া থাকলেও ১৩ জুলাই ওদের আমরা হারাতাম।’ জার্মানির কোচের দাবি সত্যি কি না সেটা জানার উপায় নেই। তবে এটা ঠিক, পরশু বিশ্বকাপজয়ী দলের মাত্র চারজন নেমেছিলেন প্রথম একাদশে। লাম, ক্লোসা, মার্টেসেকার অবসর নিয়েছেন, বিশ্রামে ছিলেন শোয়েনস্টাইগার-হামেলসরাও। যেখানে আর্জেন্টিনার ছিলেনই না চারজন। নতুন চেহারার জার্মানির খেলা নিয়ে তাই কোনো খেদ নেই লোর, ‘আমি আসলে দলকে দোষ দিচ্ছি না, কারণ ওরা একসঙ্গে কখনোই খেলেনি।’ ৪ গোল খেয়েও অবশ্য জার্মানি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। শেষ পর্যন্ত আন্দ্রে শুরলে ও মারিও গোটশের দুই গোলে যদিও ব্যবধানই শুধু কমেছে। কিন্তু ঘরের মাঠে এই হারে বিশ্বজয়ীদের গরিমা একটু চোট পেল না? লো সে রকমটাও মনে করছেন না, ‘এটা কোনো প্রতিশোধ হতে পারে না। ফাইনালের তো পুনরাবৃত্তি হয় না।’ মজার ব্যাপার, লোর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন আর্জেন্টিনার নতুন কোচ জেরার্ডো মার্টিনোও, ‘ওদের অনেকেই ছিল না। তিনজন অবসর নিয়েছে। নতুন একটা দল চট করে সাজানো কঠিন।’
শেষ পর্যন্ত প্রীতি ম্যাচে আসলে খুব বেশি কিছু আসে-যায় না। তার পরও ডি মারিয়ার জন্য ম্যাচটা আর্জেন্টিনার কাছে হয়ে রইল আক্ষেপ বাড়ানোর গল্পই। এএফপি, রয়টার্স ।

 

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.