১. স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাদ্যগ্রহণ
ঘরে আপনি যে পরিমাণ খাবার খান, বাইরে তার চেয়ে বেশি খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত বাইরে খেলে আপনার দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাইরে খায় তারা দৈনিক ২০০ ক্যালরি বেশি গ্রহণ করে। এ ছাড়া তারা দ্রবীভূত লবণ, চিনি ও সোডিয়াম বেশি গ্রহণ করেন। একজন পুরুষের দৈনিক দুই হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ২০০ ক্যালরি পর্যন্ত এবং নারীর এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ ক্যালরি পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে দৈনিক ২০০ ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে গেলে তা সত্যিই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
২. স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার অভাব
রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে মানুষ সাধারণ স্বাস্থ্যকর খাওয়ার কথা ভুলে যায়। ২০১৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজনে একজন মানুষ জানিয়েছেন, বাইরে খেতে গেলে তারা স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেন। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রিয় রেস্টুরেন্টের মেনুতে স্বাস্থ্যকর খাবার নাও থাকতে পারে। আবার থাকলেও তা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। বাস্তবে দেখা যায়, বাইরে স্বাস্থ্যকর খাবার সেভাবে খাওয়া হয় না।
৩. বাড়ির খাবার আয়ু বাড়ায়, যেখানে বাইরের ভাবার আয়ু কমায়
বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে আপনার আয়ু কমতে পারে। অন্যদিকে বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার আয়ু বাড়িয়ে দেয়। ২০১২ সালের এক গবেষণায় এ বিষয়টি প্রমাণিত। এতে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচবার বাড়িতে রান্না করে খাওয়া হলে তা এক দশক পরে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণাটি করেছেন তাইওয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা।
৪. মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে
বাইরে খাওয়ার সঙ্গে মোটা হওয়ার বিষয়টি জড়িত। যারা নিয়মিত বাইরে খায় তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। ২০০৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ফাস্ট ফুড খায় তাদের ওজন বেশি হয় এবং মধ্যবয়সের শুরুতে ইনসুলিন প্রতিরোধ বেশি দেখা যায়। এতে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হয়।
৫. বাইরের রান্না অস্বাস্থ্যকর, কিন্তু নিজের রান্না স্বাস্থ্যকর
নিজের হাতে খাবার রান্না করা হলে তাতে স্বাস্থ্যকর উপাদান অনেক বেশি থাকে। রেস্টুরেন্টে দীর্ঘ সময় ধরে যে তেলে খাবার ভাজা হয়, তেমন জিনিস আপনার বাসায় থাকার কথা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বাড়িতে রান্না করে খাবার খায়, তাদের খাবার বেশি স্বাস্থ্যকর হয়ে থাকে।
৬. উদাহরণ তৈরি
মা-বাবা নিয়মিত বাইরে খেলে তা সন্তানের মনেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এতে তারাও বাইরে খেতে উৎসাহিত হয়। তাদের মাঝে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। অন্যদিকে মা-বাবা যদি বাড়িতে খাওয়া শুরু করেন তাহলে তা সন্তানের মাঝে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বাসায় নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করা হলে তা সন্তানকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে সহায়তা করে।


No comments:
Post a Comment
Thank you very much.