google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html চার নেতার বাংলাদেশ ! - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Wednesday, October 1

চার নেতার বাংলাদেশ !

গত ফেব্রুয়ারি থেকেই বাংলাদেশ দলের কোনো সহ-অধিনায়ক নেই। সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও ছিল এক অধিনায়ক। সেই বাংলাদেশই এখন হঠাৎ করে চার নেতার দল ! বিসিবির সভায় বাংলাদেশ দলের নেতেৃত্বের খোলনলচে পাল্টে ফেলা হয়েছে। সহ-অধিনায়ক হয়তো সেই অর্থে নেতা নন, তবে ‘লিডারশিপ গ্রুপ’-এর অংশ তো বটেই। আর দুই সংস্করণে যদি হন দুই অধিনায়ক, তাহলে তো নেতার বিবেচনায় থাকেন আরও বেশি। সেই অর্থেই বাংলাদেশ দলের নেতা এখন চারজন।

অনুমিতভাবেই বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে, তাঁর সাবেক ডেপুটি সাকিব আল হাসানকে আবার পেয়েছেন সহ-অধিনায়ক হিসেবে। টেস্টে আপাতত অধিনায়ক থাকছেন মুশফিকুর রহিমই। তিনিও ফিরে পেয়েছেন তাঁর সাবেক ডেপুটিকে। নেতৃত্বের এই পালাবদলে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর নাম এটিই—তামিম ইকবাল ! 
গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা সিরিজ শুরুর চার দিন আগে রানের খরায় থাকা মাহমুদউল্লাহর জায়গায় সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল তামিমকে। ওই সিরিজেই চোট পেয়ে মুশফিক ছিটকে গেলে সহ-অধিনায়ক তামিমকে দায়িত্ব না দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক করা হয় মাশরাফিকে। অভিমানী তামিম ‘ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার’ কারণ দেখিয়ে ছেড়ে দেন সহ-অধিনায়কত্ব। সেই তামিমের কাছে আবার ফিরল দায়িত্ব। এর আগে সাকিব অধিনায়ক থাকার সময়ও সহ-অধিনায়ক ছিলেন তামিম। দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ ও পরের জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যর্থতার দায়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল দুজনের নেতৃত্ব। তিন বছর পর সেই দুজনই এখন আবার ভবিষ্যৎ অধিনায়কের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায়!
গত নভেম্বরেই ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়েছিল মুশফিককে। বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন। সময় যত এগিয়ে আসছিল, নিশ্চয়ই মুশফিকের রোমাঞ্চও বাড়ছিল। এখন মাশরাফি বা সাকিব চোট না পেলে বা অতিনাটকীয় কিছু না হলে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে না তাঁর। বোর্ডের প্রধান নাজমুল হাসান অবশ্য কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন, মুশফিকের ভার কমানোর জন্য এই ব্যবস্থা। কাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরও বললেন একই কথা। তবে বাস্তবতা বলছে, ভার কমানোর এই সিদ্ধান্তে মনে ভালোই চোট লাগার কথা মুশফিকের।মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক,সাকিব আল হাসান সহ–অধিনায়ক
নেতৃত্ব বদলের এসব সিদ্ধান্তই শুধু জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য। ‘চোটপ্রবণ’ মাশরাফিকে দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক করতে নারাজ বোর্ডের প্রধান নাজমুল হাসান, ‘মাশরাফির নেতৃত্বগুণ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দীর্ঘ সময়ের জন্য করা যেত। কিন্তু সমস্যা হলো, ও যেকোনো সময় ইনজুরিতে পড়ে যেতে পারে।’ মাশরাফির ক্যারিয়ার গ্রাফ বলছে, সেই সম্ভাবনা আছে যথেষ্টই। আসছে জিম্বাবুয়ে সিরিজেই যেমন টানা পাঁচ ওয়ানডেতে খেলা মাশরাফির জন্য হতে পারে ঝুঁকির। সে ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ে সিরিজে বা বিশ্বকাপেই নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে সাকিবকে! এই স্বল্প সময়ের দায়িত্ব দেওয়া তো মাশরাফির প্রতিও একধরণের অন্যায়। বোর্ড সভাপতি অবশ্য আশাবাদী মানুষ, ‘মাশরাফি অন্য ধরনের মানুষ। ওকে যখন আমি অধিনায়ক করার কথা বলেছিলাম, তখন ও বলেছিল অন্য কাউকে করতে। সহ-অধিনায়ক করা হলেও সে একই রকম থাকবে। আমার তাই ধারণা, পরে অধিনায়ক না থাকলেও ওর মন খারাপ হবে না।’
মানুষ হিসেবে মাশরাফি সত্যিই অন্য উচ্চতায়, অধিনায়কত্ব না থাকলে হয়তো মন খারাপও করবেন না। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে আগে আবার অধিনায়কত্বের বদল বাংলাদেশের ক্রিকেটে খানিকটা হলেও অস্থিরতা তো আনবেই! বিসিবির প্রধান অবশ্য এ প্রসঙ্গে যা উত্তর দিলেন, তাতে চোখ কপালে উঠতে পারে অনেকের, ‘আমার মনে হয় না দলে কোনো সমস্যা হবে। আর ফরম্যাট তো তিনটি, এখনো টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক খুঁজছি আমরা! বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কের ঘোষণা আসবে।’ ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ কোনো টি-টোয়েন্টি খেলবে না বলে অধিনায়ক নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হয়নি। তবে নাজমুল হাসান যা বললেন, তাতে চার নেতার বাংলাদেশ বিশ্বকাপের পর হতে পারে ছয় নেতার দল!
এত জন নেতা ধারণ করার সামর্থ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের আছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার সাকিবের দ্বারস্থ হওয়াও যেমন বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি প্রতীকী চিত্র। সদ্যই শেষ হলো যাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, দেশের বাইরের লিগে নিষিদ্ধ এখনো, সেই সাকিব দলের সহ-অধিনায়ক। মাশরাফির চোট প্রবণতার কথা মাথায় রাখলে অধিনায়ক সাকিবকেও আবার দেখতে পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। নাজমুল হাসান বললেন, আচরণে উন্নতি হয়েছে বলেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাকিবকে। বাস্তবতা বলছে, সবচেয়ে বড় কারণ, সাকিবের বিকল্প নেই!
টেস্ট-ওয়ানডেতে আলাদা সহ-অধিনায়কের সিদ্ধান্তও যথেষ্ট কৌতুহলোদ্দীপক। বোর্ড প্রধানের ব্যাখ্যা, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমরা পরীক্ষা করছি। সম্ভব সব সিনিয়রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সিরিজের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে আমরা কী করব।’
সহ-অধিনায়ক করে কীভাবে অধিনায়কত্ব পরীক্ষা করা হবে, সেটা যথেষ্টই ভাবনার বিষয়। তা ছাড়া তামিম তো আগেও সহ-অধিনায়ক ছিলেন দুই দফায়! সিদ্ধান্ত বা যুক্তি, সবই তাই প্রশ্নবিদ্ধ ।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.