প্রস্তুতি ম্যাচে ড্রয়ের পর
সারা দিনে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা-টুভেচ্ছা পেয়েছেন। সে জন্যই কি এত ফুরফুরে মেজাজে মুশফিকুর রহিম! কিন্তু জন্মদিনের প্রসঙ্গ তুলতেই একগাল হেসে ফাঁস করে দিলেন গোপন সত্য, ‘১ সেপ্টেম্বর আমার সার্টিফিকেটের জন্মদিন। আসল জন্মদিন ৯ মে। তার পরও যাঁরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ। বছরে দুইটা জন্মদিন খারাপ না। অনেক শুভেচ্ছা পাওয়া যায়, দোয়া পাওয়া যায়।’
আসলে ‘জন্মদিন’ নয়, বাংলাদেশ অধিনায়কের অমন চনমনে থাকার কারণ ড্র হওয়া প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে কিছু প্রাপ্তি। প্রতিপক্ষ নিয়ে খচখচানি তাঁর মধ্যেও আছে। এ ম্যাচে তিনি নিজেও আরেকটু কঠিন প্রতিপক্ষ আশা করেছিলেন। তবে দিন শেষে ‘কার বিপক্ষে খেললাম’ এর চেয়ে ‘কেমন খেললাম’টাই মুশফিকের কাছে বড়। সে জায়গায় এক শতে অন্তত আশির ওপরে নম্বর তো পাচ্ছেই বাংলাদেশ দল। যা একটু অতৃপ্তি প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে।
নিজে তো সেঞ্চুরি করেছেনই, প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি আছে নাসিরেরও। সঙ্গে নিষ্প্রাণ ব্যাটিং উইকেটেও তিন বোলারের তিনটি করে উইকেট নেওয়া, দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম ইকবাল-শামসুর রহমানের ভালো শুরু—সব মিলিয়ে সেন্ট কিটস ও নেভিসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে অর্জন কম দেখছেন না মুশফিক।
প্রতিপক্ষ দুর্বল ছিল স্বীকার করেও ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। অনেক দিন ধরে আমরা টেস্ট খেলি না। সেদিক থেকে উন্নতির কিছু জায়গা তো আছেই। তবে আমরা তিন দিন মাঠে ছিলাম এবং ব্যাটসম্যানরা কমবেশি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছে, এটাই বড় কথা।’ আলাদা করে বললেন নাসির, তামিম, ইমরুল, শুভাগত আর শামসুরের কথা। দুই ইনিংসের ব্যাটিং দেখে অধিনায়কের উপলব্ধি, ব্যাটসম্যানদের জন্য প্র্যাকটিস ম্যাচটা ভালোই কাজে লেগেছে। সহানুভূতি ঝরল বোলারদের জন্যও, ‘বোলারদের অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে এখানে। কারণ উইকেটে কিছুই ছিল না। রুবেল, তাইজুল, শুভাগত ভালো বল করেছে। কাজের ভাগ যেভাবে যেভাবে হওয়া দরকার ছিল, ঠিক সেভাবে হয়েছে।’
দ্বিতীয় ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে ৯৪ রান হওয়ার পর স্বেচ্ছা অবসর নেন তামিম (৪৩)। পরের ওভারে আরেক ওপেনার শামসুরও (৪৬)। বাকিদের মধ্যে ইমরুল কায়েস (৯) ও এনামুল হকের (১৫) উইকেট দুটি হারিয়ে দিন শেষে বাংলাদেশ দলের রান ১৪৮। মাহমুদউল্লাহ ২৪ আর শুভাগত হোম চৌধুরী ১ রানে অপরাজিত। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনারদের ভালো শুরুও মুশফিকের জন্য প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতায় প্রলেপ হতে পারছে না। টপ অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে তাঁর আক্ষেপ, ‘এ রকম বোলিং আক্রমণ তো আর টেস্টে পাওয়া যাবে না। এই আক্রমণের বিপক্ষে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বড় রান করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। ৫০-৬০ রান করে কোনো টেস্ট ম্যাচ জেতা যায় না বা কোনো টেস্ট ড্রও করা যায় না।’
প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে অর্জন যেটুকুই হোক, বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখের সামনে অনেক বড় স্বপ্ন ভাসিয়ে তুলছে সেটাই। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেন্ট ভিনসেন্টে শুরু দুই টেস্টের সিরিজে ড্রয়ের লক্ষ্যের কথা জানিয়েও দিলেন, ‘ওয়ানডেতে অনেক ভালো কিছু করার সুযোগ ছিল। চেষ্টা করব সে রকম সুযোগ আবারও তৈরি করতে এবং সেটা কাজে লাগাতে। এটা আমাদের মূল লক্ষ্য। আর ব্যক্তিগতভাবে বললে দুই টেস্টেই আমার ড্র করার ইচ্ছা। সেই সামর্থ্যও আমাদের আছে।’ সামর্থ্যের কথাটা বললেন বোলিং-ব্যাটিং দুই ক্ষেত্রেই, ‘ওদের দুবার অলআউট করার সামর্থ্য আমাদের বোলারদের আছে। সঙ্গে ব্যাটিংয়েও যদি আমরা ভালো করি...আমার মনে হয় ওদের যে রকম বোলিং আক্রমণ, দুই টেস্টেই ভালো করার সামর্থ্য আমাদের ব্যাটসম্যানদের আছে। আমি চাইব সবাই যেন অন্তত চেষ্টাটা করে।’
সেন্ট কিটস ও নেভিসের হয়ে খেলা একমাত্র শিবনারায়ণ চন্দরপলই আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে। ক্যারিবীয় দলে যেহেতু তিনিই সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, তাঁর জন্য আলাদা ছকও করা আছে। প্রস্তুতি ম্যাচে সেটা কাজে না লাগলেও টেস্টে কাজে লাগবে বলে মুশফিকের বিশ্বাস, ‘আমাদের তাকে (চন্দরপল) নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা ছিল, আরও কিছু পরিকল্পনা আছে। অবশ্যই চেষ্টা করব তাকে যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি ফেরাতে। শুধু আমরা না, বিশ্বের সব দল সব সময়ই তাকে নিয়ে ভাবে।’
সেন্ট কিটস ও নেভিসের ৩৯৯ রানের মধ্যে চন্দরপলের একারই ১৮৩! কাল সেন্ট কিটস থেকে সেন্ট ভিনসেন্টে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ দলেরও সঙ্গী হলো চন্দরপল-ভাবনা।
প্রস্তুতি ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৩৭৭/৭ ডি. (মুশফিকুর ১০৬*, নাসির ১০০, শুভাগত ৪৮, ইমরুল ৪৪; বোটসওয়াইন ২/৪৭, লুইস ২/৫৬) ও ১৪৮/৪ (শামসুর ৪৬, তামিম ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ২৪*, এনামুল ১৫, ইমরুল ৯, শুভাগত ১*; মার্টিনা ১/৪৫, বেরিজ ১/৪৮)।
সেন্ট কিটস ও নেভিস ১ম ইনিংস: ৩৩৯ (চন্দরপল ১৮৩, জেফার্স ১১৮; শুভাগত ৩/৪৮, রুবেল ৩/৯০, তাইজুল ৩/১০৯, মাহমুদউল্লাহ ১/৩৪)। ফল: ম্যাচ ড্র।


No comments:
Post a Comment
Thank you very much.