google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html প্রতিপক্ষ না, মুগ্ধ সমর্থক ! - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Wednesday, October 1

প্রতিপক্ষ না, মুগ্ধ সমর্থক !












কুয়েতের হার ২০৩ রানে














ম্যাচটা তাহলে কারা জিতল! খেলা শেষ হতেই কুয়েতি খেলোয়াড়েরা যেভাবে মাঠে জাতীয় পতাকা নিয়ে হাজির, তাতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাওয়ারই কথা। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের একসঙ্গে করে মাঠের মাঝখানে তুলতে লাগল একের পর এক গ্রুপ ছবি। মনে হলো, টেস্ট দল বাংলাদেশকে হারিয়ে দেওয়া ‘অভূতপূর্ব’ এক মুহূর্তকেই যেন তারা ফ্রেমবন্দী করতে চাইছে।

ঘটনা কিন্তু উল্টো। ইনচনের ইওনহি ক্রিকেট মাঠের চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে কাল কুয়েতকে বাংলাদেশ প্রত্যাশামতোই হারিয়েছে ২০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। ম্যাচটা আন্তর্জাতিক নয়, তবে যেকোনো পর্যায়ের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আর বাংলাদেশের ৯ উইকেটে করা ২২৪ রানের জবাবে কুয়েতের মাত্র ২১ রানে অলআউট হওয়াটা যেকোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে কম রান। তার পরও বাংলাদেশের ইনিংসে শুধু অতিরিক্ত খাত থেকে আসা রানের সমান রান করতে পেরেই কুয়েতিরা খুশি। কারণ তাদের একটা স্বপ্নপূরণ হয়েছে। যাদের খেলা এত দিন শুধু টেলিভিশনে দেখেছে, তাদের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে পারাটা যে সবচেয়ে বড় পাওয়া কুয়েত দলের! 
কুয়েত ম্যাচটা প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলেছে, নাকি বাংলাদেশ দলের সমর্থক হিসেবে, সেটাও প্রশ্ন। টস করতে যাওয়ার সময়ের ঘটনাটা শুনুন। কুয়েতের ৫৮ বছর বয়সী অধিনায়ক বাসতাকি মাহমুদ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে অনুরোধ করলেন, ‘প্লিজ, টসে জিতলে তোমরা ব্যাটিং নিয়ো। আমরা তোমাদের ব্যাটিং দেখতে চাই।’ মাশরাফি টস জেতেননি। কিন্তু সত্যি হলো, টসে জিতে বাংলাদেশকেই ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানালেন বাসতাকি।
বাংলাদেশ ইনিংসে কুয়েতের পুরো বোলিং পর্বটাই ছিল, ‘স্লো মোশনে’। অনেক দূর থেকে দৌড়ে এসে একেকজনের বল করা, কিন্তু সেই বল যেন যেতেই চায় না ব্যাটসম্যান পর্যন্ত! কখনো শূন্যে ভাসছিল, কখনো উইকেটে পড়ে হারাচ্ছিল গতি, কখনো যাচ্ছিল প্রায় গড়িয়ে। এই বোলিংয়ের বিপক্ষেও ব্যাটিং কতটা কঠিন, তা শুনুন ওপেনার তামিম ইকবালের কাছে, ‘ব্যাটিং করতে গিয়ে আমি জীবনে দুবার ভয় পেয়েছি। একবার শোয়েব আখতারকে খেলতে গিয়ে, আরেকবার আজ (গতকাল)।’
কুয়েতের ধীরগতির বোলিংয়ের সামনে তামিম যে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন, সেটা তাঁর ব্যাটিংয়েও পরিষ্কার। ব্যক্তিগত ১ রানে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েও ২২ বলে তিন বাউন্ডারিতে করতে পারলেন মাত্র ২৮। অন্য ব্যাটসম্যানদেরও বা খুব বেশি রান কই? ফিফটি পেলেন শুধু মোহাম্মদ মিঠুন (৫৯)! বাংলাদেশের ২২৪ রানের কথা তাই যত না বড় গলায় বলা যাচ্ছে, কুয়েত চাইলে তার চেয়েও বড় গলায় বলতে পারে, ‘আমরা তো তাদের ৯ উইকেট ফেলে দিয়েছি...।’ দলটা বাংলাদেশকে অলআউটই করতে পারত। ইনিংসের শেষ বলে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। বাউন্ডারিতে থাকা ফিল্ডার ক্যাচটা নেওয়ার চেষ্টা করলেও হাত ফসকে শেষ পর্যন্ত চার হয়ে গেল সেটা।
কুয়েতের বিপক্ষে ৯ উইকেট হারানোটা নেতিবাচক বললেও এর একটা ভালো দিক খুঁজে পেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি, ‘ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে এটা ইতিবাচক নয়। আমরা ভাবিনি ৯ উইকেট হারাব। তবে আমরা চেয়েছিলাম প্রতিটি ব্যাটসম্যান যেন একটু হলেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়। সেটা হয়েছে।’
কুয়েতের ব্যাটিংয়ের বর্ণনা না দেওয়াই ভালো। ১৩ ওভারে ২১ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া একটা দল কেমন ব্যাট করতে পারে তা বোঝাই যায়। একবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করে আরাফাত সানি নিয়েছেন ৪ উইকেট, মাহমুদউল্লাহ ৩টি। কুয়েতিরা ১৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যাওয়ায় একটু অতৃপ্তি আছে মাশরাফির, ‘পালাক্রমে সবাইকে দিয়েই বল করানোর চেষ্টা করেছি। তবে কালকের (আজ) ম্যাচটার জন্য বোলাররা আরেকটু বল করতে পারলে ভালো হতো।’
কুয়েত ম্যাচটাকে আনুষ্ঠানিকতা ধরে বাংলাদেশ দল মূলত প্রস্তুতি নিচ্ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজকের সেমিফাইনালের জন্যই। মাশরাফির দৃষ্টিতে এটাই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এ ম্যাচে এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশকেই, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে দুই দলই প্রায় সমান। তবে বোলিংয়ের দিক দিয়ে আমরাই এগিয়ে। বোলিংটা ভালো হলে ম্যাচ জয়ের ভালো সম্ভাবনা থাকবে আমাদের।’
কোচের আশা সত্যি হলেও এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে বাংলাদেশের সোনা পাওয়াটা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে আজকের আফগানিস্তান–হংকং প্রথম সেমিফাইনালের জয়ী দল। নিকট অতীতে এই দুই দলই যে হারিয়েছে বাংলাদেশকে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২২৪/৯ (তামিম ২৮, এনামুল ৩৮, মিঠুন ৫৯, সাকিব ২৩, সাব্বির ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ৪, নাসির ৯, শুভাগত ০, মাশরাফি ১, আরাফাত ১*, রুবেল ৫*; ফাহাদ ৩/৪৮, আলোতায়েবি ২/১৯, আলকান্দারি ২/৪২, মাহমুদ ২/৪৫)। কুয়েত: ১৩ ওভারে ২১ (আলোতায়েবি ৭, ফাহাদ ৬; রুবেল ০/২, মাশরাফি ০/০, সাকিব ১/৪, মাহমুদউল্লাহ ৩/১, শুভাগত ১/২, আরাফাত ৪/৮, সাব্বির ১/৪)।
ফল: বাংলাদেশ ২০৩ রানে জয়ী।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.