google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html ন্যাশনাল ব্যাংকে ৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Friday, October 3

ন্যাশনাল ব্যাংকে ৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি

বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ঘটেছে গুলশান শাখায়। এছাড়া চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও ঢাকার দিলকুশা শাখায়ও নানা ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে অনিয়মের আরও অনেক ঘটনা। সবমিলিয়ে জালিয়াতির পরিমাণ আরও বাড়বে। জালিয়াতির মাধ্যমে বের করে নেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। ঝুঁকি কমাতে তাদের খেলাপি ঋণের বিপরীতে মুনাফা থেকে প্রভিশন করতে হচ্ছে।




সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান শাখায় বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত একটি প্রাথমিক তদন্তে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে। এই শাখায় ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেংকারির ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। খাতুনগঞ্জ শাখায় নুরজাহান গ্র“পের নামে প্রায় ৮১৫ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার পুরোটাই এখন খেলাপি। চট্টগ্রামের আরও একটি গ্র“পের নামে প্রায় হাজার কোটি টাকা, ঢাকার একটি বড় শিল্প গ্র“পের নামে সমপরিমাণ টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনাও ধরা পড়েছে। ওইসব ঋণ খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এসব কারণে পরিচালকদের প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে ব্যাংকের এমডি একেএম শফিকুর রহমান মঙ্গলবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগী এমডি একেএম শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর একটি তদন্তে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালকদের নামে-বেনামে বেশ কিছু বেআইনি কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কয়েকজন পরিচালকের নামে বেআইনি ঋণ সুবিধা দেয়া, ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ, এককালীন নগদ অর্থ পরিশোধ ছাড়াই খেলাপি ঋণ নবায়ন সুবিধা দেয়া, স্বল্পমেয়াদি ঋণকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির কাছে সম্প্রতি একটি চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে অচিরেই তারা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেবে বলে ন্যাশনাল ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, নিজ নামে ব্যাংকের পরিচালকরা প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামছুল হুদা খানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ঈদের পর এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
একই বিষয়ে কথা বলার জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজিব উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
সূত্র আরও জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের নুরজাহান গ্র“প ও সিদ্দিক ট্রেডার্সকে দেয়া প্রায় হাজার কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী। এই ঋণ খেলাপি ছিল। পরে তা বিশেষ সুবিধায় নবায়ন করা হয়েছে। এর বিপরীতে ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত জামানত নেই।
নুরজাহান গ্রুপ সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে। খাতুনগঞ্জ শাখায় গ্র“পের নামে ৮১৫ কোটি টাকা ঋণের পুরোটাই খেলাপি। এর বিপরীতে ব্যাংকের কাছে জামানতের পরিমাণ খুবই কম।
ন্যাশনাল ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এর খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে। যদিও চলতি বছরের মার্চের তুলনায় জুনে প্রভিশন ঘাটতি নেই। গত জুনে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে কুঋণ ৪৭৮ কোটি টাকা, সন্দেহজনক ৪২ কোটি টাকা এবং নিুমানের ৩২৪ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকটির ২ হাজার ৩ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করা হয়েছে। অর্থাৎ রাইট অফসহ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। গত মার্চে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬০৭ কোটি টাকা। ৩ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩৭ কোটি টাকা ।




সূত্রঃ  

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.