google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html জয় নিয়েই ভাবছেন সাকিব - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

শুক্রবার, অক্টোবর ২৪

জয় নিয়েই ভাবছেন সাকিব

মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষকে তিনি এখন ব্যস্ত রাখতে চাইছেন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে। এবং এত বেশি করে যে, ওয়ানডের সহ-অধিনায়কত্ব নিয়ে সামান্য প্রতিক্রিয়া জানাতেও তিনি রাজি নন। ইনচনে এশিয়ান গেমস চলাকালে বিসিবি টেস্ট-ওয়ানডের অধিনায়কত্ব ভাগাভাগি করে তুলে দিয়েছে দুজনের হাতে। তাতে সাকিব আল হাসান হয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ডেপুটি। তবে এ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তিনি জানাননি।




সহ-অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর কাল প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রসঙ্গটা উঠল। সেটাও এড়িয়ে গিয়ে সাকিব বললেন, ‘এখন ওয়ানডে নিয়ে চিন্তা করছি না। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হোক তখন দেখব অনুভূতিটা কেমন।’  
কাল থেকে মিরপুরে শুরু হচ্ছে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম টেস্ট। তিন টেস্টের এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক খারাপ সময়টা কাটিয়ে ওঠার ব্যাপার তো আছেই, টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এই সিরিজ। তা ছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পুরোনো চ্যালেঞ্জও আছে। সাকিব যদিও সেটিকে সে রকম কোনো চ্যালেঞ্জ মনে করছেন না। জিম্বাবুয়ের সামনে তিনি সব সময়ই এগিয়ে রাখেন বাংলাদেশকে, ‘কাগজে-কলমে যদি দেখি, আমার কাছে সব সময় মনে হয় আমাদের দলটা ভালো। পেস বোলার বলেন, স্পিনার বলেন, ব্যাটিং বলেন, সব বিভাগেই মনে হয় ওদের থেকে ভালো আমরা। হয়তো ফিল্ডিংটা ৫০-৫০ হতে পারে বা ৪০-৬০ হতে পারে। বাকি সব বিভাগে আমরাই এগিয়ে।’
দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ের সাম্প্রতিক ছবিটা অবশ্য ভিন্ন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া দুই টেস্টের সর্বশেষ সিরিজ ১-০-তে জিতেছিল বাংলাদেশ দল। মাঝে ছয় বছর টেস্ট ক্রিকেটে স্বেচ্ছানির্বাসিত জিম্বাবুয়ে ২০১১ সালে ফিরেই যেন বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ দিতে লাগল। ২০১১ থেকে এ পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি হওয়া তিন টেস্টের দুটিতে জিতেছে জিম্বাবুয়ে, অন্যটিতে বাংলাদেশ। অবশ্য ২০১১ ও ২০১৩ সালে হওয়া এই তিনটি টেস্টই হয়েছে জিম্বাবুয়েতে।
সাড়ে ৯ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েকে আবারও দেশের মাটিতে পেয়ে উজ্জীবিত হতেই পারে বাংলাদেশ, প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়াও স্বাভাবিক। সাকিবও সেটা মানেন, ‘প্রত্যাশা একটু বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু নিজেদের মাঠে খেলা, আর নিজেদের মাঠে আমাদের রেকর্ডটাও ভালো বেশ কিছু দিন। আশা তো সবাই করবেই।’
এবার আশা একটা নতুন শুরুরও। ২০১৪ সাল বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেন একটি অভিশপ্ত বছর। এ বছর চারটি টেস্ট খেলে তিনটিতেই হারতে হয়েছে, অন্যটি হয়েছে ড্র। ওয়ানডের অবস্থা আরও খারাপ। হার ১৩ ম্যাচের ১২টিতেই, ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ পণ্ড বৃষ্টিতে। ১০টি টি-টোয়েন্টির দুটিতে মাত্র জয় খুদে আফগানিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে। বাকি ৮ ম্যাচের একটিতে হারের লজ্জা দিয়েছে হংকং। বাংলাদেশ দল যে তাই একটু চাপের মধ্যেই আছে, সেটা মানেন সাকিব। তবে বললেন, ‘আমাদের এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা ম্যাচ জেতাতে পারে। নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে আমি নিশ্চিত আমরাই জিতব।’ সিরিজে বাংলাদেশ দলের জয় ছাড়া অন্য কিছু তিনি ভাবছেনও না, তবে একটু সতর্কভাবে, ‘জয় ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করছি না। কিন্তু এমনও হতে পারে পরিস্থিতি বদলে গেল। তখন ড্র করাটাকেও জয়ের সমান মনে হতে পারে।’
দুঃসহ এক বছরের প্রান্তে এসে বাংলাদেশ সামনে পাচ্ছে জিম্বাবুয়েকে। সন্দেহ নেই, বিশ্বকাপের বছর ২০১৫-তে পা দেওয়ার আগে এই সিরিজেই শাপমুক্তি প্রার্থনা বাংলাদেশের। সাকিবের মুখেও একই কথা, ‘আমরা সবাই নতুন করে শুরু করছি। আমার ধারণা, সবাই নতুনভাবেই চিন্তা করবে। আত্মবিশ্বাস থাকাটা জরুরি।’ সবাইকে অবশ্য সতর্কও করে দিলেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হতে, ‘কতটা আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার, আমার বিশ্বাস সে ব্যাপারে সবার ধারণা আছে। যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকু আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেললেই ভালো।’ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বলেই এই সতর্কবার্তা। নইলে গত এক বছরে যা পারফরম্যান্স, তাতে কারও বিপক্ষেই বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ নেই।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলের আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও বাড়াতে পারেন পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। জিম্বাবুয়ে দলের দুর্বলতা ও শক্তির দিকগুলো যে ভালোই জানা থাকার কথা এই জিম্বাবুইয়ানের। কোচিং স্টাফে এমন একজনের উপস্থিতি ইতিবাচক মনে করেন সাকিবও। যদিও সবাইকে চমকে দিয়ে বললেন, ‘ইতিবাচক হবে, যদি উনি সবকিছু আমাদের বলেন। এখন উনি কতটুকু বলছেন, এটা তাঁর ব্যাপার।’
বাচনভঙ্গিতেই পরিষ্কার, সাকিবের কথাটা রসিকতা করে বলা। আর যদি সত্যিই তাঁর মনে স্ট্রিককে নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে, কাল টিম মিটিংয়ের পর দূর হয়ে যাওয়ার কথা সেটাও। দল সূত্রের খবর, টিম মিটিংয়ে জিম্বাবুয়ের অনেক গোপন তথ্যই বাংলাদেশ দলকে জানিয়ে দিয়েছেন স্ট্রিক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thank you very much.