গালে কষিয়ে চড় বসাল একজন সাদা এপ্রোন পরিহিত ডাক্তার।
রোগীর কোন বিকার নেই আরেক গাল এগিয়ে দিল স্যার এ গালেও মারেন।
ডাক্তার হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাঁচি ছুরি চালিয়ে পেট কাটতে ওস্তাদ হলেও চড় থাপ্পড়ের লাইনে নতুন বলে কথা।
রোগীর কোন বিকার নেই আরেক গাল এগিয়ে দিল স্যার এ গালেও মারেন।
ডাক্তার হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাঁচি ছুরি চালিয়ে পেট কাটতে ওস্তাদ হলেও চড় থাপ্পড়ের লাইনে নতুন বলে কথা।
ইশ কি লাল কচি গাল দুইট্যা রে। উম্মা.... 
মেয়েটা মাথা নিচু করে হাঁটছে। পাকা রাস্তার দুই দিকে পায়ে হাঁটার জন্য কিছুটা জায়গা রাখা হয়। সেই পায়ে হাঁটা রাস্তারও কিনার দিয়ে মাথা নিচু করে এগিয়ে যাচ্ছে পারুল। কে কি বলল তা নিয়ে মাথা ঘামায় না এখন কিন্তু সাত সকালে চৌরাস্তার মোড়ে এলেই মন খারাপ হয় তার। কিন্তু এদিক ছাড়া স্কুলে যাওয়ার আর কোন রাস্তা নাই। মরিয়মের বিয়ের পর অত্যাচার অনেক বেড়ে গেছে। মরিয়মের ভাইয়ের ভয়ে আগে টিজ করত না।
মরার বড় ভাইটা যে আর কতদিন বিদেশ থাকবে? মনে মনে গালি দেয় বড় ভাইকে।
পিছন থেকে ভেসে আসছে
দেখ দেখ লজ্জা পাইছে আহারে .... চুক চক শব্দের পর অট্টহাসি।
ইভটিজারদের দলে একটা ছেলে নতুন সে এই পাড়ারই ছেলে তবে এলাকায় থাকত না নানার বাড়িতে ছিল ছোট বেলা থেকে। সবাই যখন পারুলকে টিজ করছিল তখন সুমন একমনে কি যেন ভাবছিল। মনে হচ্ছিল এটা অন্যায়।
বাব্বাহ একটু আগেই তো মোটকু মেয়েটার ....... নিয়ে কমেন্ট করলি!
না দোস্ত এই মেয়েটাকে কিছু বলবি না। সাফ কথা।
আরে সুমন! দোস্ত প্রেমে পড়লি নাকি? দুই চোখ কপালে উঠিয়ে জিজ্ঞাসা করল আরিফ।
গালের বামদিকে কাটা। জিন্সের প্যান্টটা বেল্ট দিয়ে কোমরের ফুট খানিক নিচে হালকা করে বাঁধা। সুমনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এলাকায় এসে প্রথম ভাব আরিফের সাথে।
আরে না। টিজ করার জন্যও মেয়ে লাগে যারা টাইট ফিটিংস কাপড় চোপড় পড়ে অন্যকে দেখানোর জন্য তাদের ক্ষেত্রে করাই যায়।
হুম! বহুত জ্ঞানী লোক বোঝা যাচ্ছে কিছুক্ষন পর ইমাম সাহেবের মত বয়ান শুরু করবি তোমাদের কি বোন নাই? তাহলে টিজ কর কেন? ইমাম সাহেবের সুর নকল করে বলে আরিফ।
যা সিগ্রেট আন। যা।
ইভটিজিং আর সিগারেটের মধ্যে একটা বিশেষ মিল আছে। অধুমপায়ী কোন ইভটিজার পৃথিবীতে নাই।
আজ রবিবার। পারুলের বাবুর দ্বিতীয় জন্মদিন। অনেক সুন্দর বাচ্চাটা। চোখগুলো ঠিক বাবার মত। পারুলের রং পেয়েছে ছেলেটা। দুধে আলতা রং। চোখ ফেরানো যায় না কোন মতে। এত্ত সুন্দর কেন তুমি আব্বু? বলে পরম মমতায় ছেলেকে বুকের মাঝে চেপে ধরে পারুল।
বাড়িতে লোকজন ভিড় করছে। আশেপাশের গরীব লোকদেরকে ডাকা হয়েছে। বাবুর জন্মদিনে তারা খেয়ে দোয়া করবে। বাবুর মামা বিদেশ থেকে অনেক চকলেট পাঠিয়েছে। বাবু খুশিমনে সেগুলো ওলট পালট করছে।
আরে সুমন ভাই কেমন আছেন?
হুম ভালো আছি।
পারুল অস্বস্তি অনুভব করছে। সুমন ভাই একটানা তার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন আছেন বলে একটু ইজি হওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তাকিয়েই আছেন। অনেকেই আড়চোখে লক্ষ্য করছে।
ভাবি একটু এদিকে আসেন তো। বারান্দার একদিকে গেল পারুল।
বলেন সুমন ভাই। যা বলবেন তা সবার সামনেই বলা যেত।
না পারুল সব কিছু সবার সামনে বলা যায় না। এমন কিছু বলল সুমন যে পারুলের পা থর থর করে কাঁপছিল। এ কেমন অসভ্য মানুষ? বিবাহিত জেনেও কুপ্রস্তাব দেয়। আজ ও আসুক।

আরিফ অফিসে দারুন ব্যস্ত। এখন লাঞ্চ আওয়ার। সারাদিনের কোলাহলে একটু নিশ্চুপ সময়। এখন রওয়ানা দিবে বাড়ির দিকে। নিজের অফিস বেশিদিন হয়নি গড়ে তোলার নাহলে আজ নিশ্চিত অফিস আসত না সে। এখন বৌয়ের কথা ভাবছে সে আর শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসছে তার। গালের কাটা দাগ ছাড়া আগের কোন স্মৃতির কথা অনেকেই ভুলে গেছে। এখন পুরোদস্তুর ভদ্র ছেলে আরিফ।
বাড়িতে এসেই থ হয়ে যায় আরিফ। গোটা বাড়ি হাসি আনন্দে ঝলমল করলেও পারুল কেমন যেন ফ্যাঁকাসে। বৌয়ের এই চেহারা অপরিচিত আরিফের। আরিফকে দেখে যেন চোখদুটো আরো জলের গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে পারুলের।
কি হয়েছে সোনা? একটু আড়ালে জিজ্ঞেস করতেই হু হু করে কেঁদে ফেলল পারুল। জীবনে প্রথম অভিযোগ করল তাও এমন একজনের বিরুদ্ধে মাথা ঘুরছে আরিফের। মনে পড়ল আরিফের তার বাবা যখন দুরসম্পর্কের কোন এক আত্মীয়ের সম্পর্ক তুলে ধরে পারুলকে ঘরে আনার কথা বলেছিল চিরদিনের লাজুক পারুল সেদিনও বাবাকে অভিযোগ দেয়নি আরিফ ইভটিজার। নিজেকে ভবিষ্যতের হাতে সঁপে দিয়েছিল।
সেই মেয়ে কোন দু:খে আজ অভিযোগ করেছে বুঝে আরিফ। পুরাতন আরিফ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তবেরে শালা।
রাত দশটার সময় অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডের ডিউটি ডাক্তার ১১ নং বেডের রোগীর ফাইলে লিখে রাখে রোগী অনুপস্থিত। রাত নয়টায় সে বেরিয়ে গেছে হাসপাতাল থেকে। সে হিসেব জানে বন্ধুর প্রতিটি কদমের। সে যে অফিস থেকে রাত বারোটার আগে ফেরে না তাও জানে। ধীরে ধীরে বন্ধুর বাড়ির গেটে এসে দাঁড়ায়। এত তাড়া ছিল না তার। বড় ডাক্তার বলেছিল আজকেই ছুটি দিবে। অনেক অনুরোধ করে একদিন সময় নিয়েছে সুমন। একটা প্লান মাথায় অনেক দিন ধরে ঘুরছে। একবার কোন মেয়ের দিকে নজর পড়লে তাকে তার চাইই যে করেই হোক। কেউই ভাববে না সুমন খারাপ তাই বাইরে একটা ভদ্রলোকের বেশ টানানো আছে। তার নজরের আওতায় একটা মেয়ে এখনো তার শিকার হতে বাকি আছে পারুল। প্রথম দিনই নজরে পড়েছিল সে। তার প্রথম শিকার আঠারো বছর বয়সে নিজের মামাতো বোন। অবশ্য এক্ষেত্রে অংকেও দারুণ পাকা হতে হয়। মামাতো বোন যেদিন পাশের বাড়ির ছেলের চিঠির কথা মামাকে বলে দেয় সেদিন মামা ঐ ছেলেটাকে দারুন বকাঝকা করে। সেদিনই মাঝ রাতে মামাতো বোনের বেডের নীচ থেকে বের হয় অন্য সুমন। শান্ত ধীর গন্তব্য সম্পর্কে সচেতন সুমন বিড়ালের মত এগিয়ে যায়। যে অপরাধের জন্য পাশের বাড়ির ছেলের মৃত্যুদণ্ড হয়। সুমনও পরেরদিন কেঁদেছিল খুব মামাতো বোনের শোকে। হাসি পাচ্ছে এখন। আরেকজনের কথা মনে পড়ছে অনন্যা। সত্যি ভালোবাসত তাকে মোবাইলে সম্পর্ক। কত কথা বলত মেয়েটা। একদিন ডেকে এনে হাহা হা অট্টহাসি দিতে ইচ্ছে করছে সুমনের। মেয়েগুলো এমন কেন? অল্পতেই পা ধরে।
দরজায় টোকা দিল সুমন। প্রথম দুইটা টোকা জোরে দিয়ে তৃতীয়টা একটু দেরিতে ধীরে আরিফের কোড। একদিন রাতে সুমনকে নিয়ে এসেছিল আরিফ এভাবে নক করেছিল সে। পারুল আসছে না। তবে কি কোড চেঞ্জ করেছে নাকি আরিফ আজ অফিস যায় নি? যে রাতে সুমন শিকারের জন্য বের হয় সেই রাতের নাম দিয়েছে ঘটনার রাত এই রাতে বিচলিত হতে নেই তবুও একফোঁটা ঘাম জেগে উঠছে কপালে।
রেপ করলি এটাই তো অনেক আবার বাবুটাকে মারলি কেন?
হতভম্ব ডাক্তারটিকে পাশে সরিয়ে সজোরে থাপ্পড় দিল আরেক ডাক্তার।
জীবনে প্রথম এমন ভুল করল সুমন। রেপের পর পারুলের বেঁচে থাকাটাই কাল হয়েছে তার। পারুলের হাত পা বাঁধার পর বাবু কান্নাকাটি করলে তার গলা টিপে ধরে সুমন। এতক্ষণ সুমনের সাথে ধস্তাধস্তি করা পারুল নিমিষেই নীরব হয়ে যায় বাবুর সাথে সাথে। এমনকি রেপের সময়ও না। সুমন ভেবেছিল মরে গেছে তারপরও কিছুক্ষন বালিশ চাপা দিয়েছিল কিন্তু কোন নড়াচড়া নাই।
আইসিইউতে একবার মাত্র জ্ঞান ফিরেছিল পারুলের।
দুই জন ডাক্তার দুইবার মারলেও আরো একজন ডাক্তার সেদিন পাশে ছিল। কোন এক অজ্ঞাত কারনে তার হাত উঠেনি তৃতীয় ডাক্তার আমি নিজেই, পরে গল্প শুনেছিলাম তার নিজের জবানীতেই আর ভাবছিলাম মানুষের এত সুন্দর মুখাবয়ব এর ভিতরের আবরণ টির কথা।
মরার বড় ভাইটা যে আর কতদিন বিদেশ থাকবে? মনে মনে গালি দেয় বড় ভাইকে।
পিছন থেকে ভেসে আসছে
দেখ দেখ লজ্জা পাইছে আহারে .... চুক চক শব্দের পর অট্টহাসি।
ইভটিজারদের দলে একটা ছেলে নতুন সে এই পাড়ারই ছেলে তবে এলাকায় থাকত না নানার বাড়িতে ছিল ছোট বেলা থেকে। সবাই যখন পারুলকে টিজ করছিল তখন সুমন একমনে কি যেন ভাবছিল। মনে হচ্ছিল এটা অন্যায়।
বাব্বাহ একটু আগেই তো মোটকু মেয়েটার ....... নিয়ে কমেন্ট করলি!
না দোস্ত এই মেয়েটাকে কিছু বলবি না। সাফ কথা।
আরে সুমন! দোস্ত প্রেমে পড়লি নাকি? দুই চোখ কপালে উঠিয়ে জিজ্ঞাসা করল আরিফ।
গালের বামদিকে কাটা। জিন্সের প্যান্টটা বেল্ট দিয়ে কোমরের ফুট খানিক নিচে হালকা করে বাঁধা। সুমনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এলাকায় এসে প্রথম ভাব আরিফের সাথে।
আরে না। টিজ করার জন্যও মেয়ে লাগে যারা টাইট ফিটিংস কাপড় চোপড় পড়ে অন্যকে দেখানোর জন্য তাদের ক্ষেত্রে করাই যায়।
হুম! বহুত জ্ঞানী লোক বোঝা যাচ্ছে কিছুক্ষন পর ইমাম সাহেবের মত বয়ান শুরু করবি তোমাদের কি বোন নাই? তাহলে টিজ কর কেন? ইমাম সাহেবের সুর নকল করে বলে আরিফ।
যা সিগ্রেট আন। যা।
ইভটিজিং আর সিগারেটের মধ্যে একটা বিশেষ মিল আছে। অধুমপায়ী কোন ইভটিজার পৃথিবীতে নাই।
আজ রবিবার। পারুলের বাবুর দ্বিতীয় জন্মদিন। অনেক সুন্দর বাচ্চাটা। চোখগুলো ঠিক বাবার মত। পারুলের রং পেয়েছে ছেলেটা। দুধে আলতা রং। চোখ ফেরানো যায় না কোন মতে। এত্ত সুন্দর কেন তুমি আব্বু? বলে পরম মমতায় ছেলেকে বুকের মাঝে চেপে ধরে পারুল।
বাড়িতে লোকজন ভিড় করছে। আশেপাশের গরীব লোকদেরকে ডাকা হয়েছে। বাবুর জন্মদিনে তারা খেয়ে দোয়া করবে। বাবুর মামা বিদেশ থেকে অনেক চকলেট পাঠিয়েছে। বাবু খুশিমনে সেগুলো ওলট পালট করছে।
আরে সুমন ভাই কেমন আছেন?
হুম ভালো আছি।
পারুল অস্বস্তি অনুভব করছে। সুমন ভাই একটানা তার দিকে তাকিয়ে আছে। কেমন আছেন বলে একটু ইজি হওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তাকিয়েই আছেন। অনেকেই আড়চোখে লক্ষ্য করছে।
ভাবি একটু এদিকে আসেন তো। বারান্দার একদিকে গেল পারুল।
বলেন সুমন ভাই। যা বলবেন তা সবার সামনেই বলা যেত।
না পারুল সব কিছু সবার সামনে বলা যায় না। এমন কিছু বলল সুমন যে পারুলের পা থর থর করে কাঁপছিল। এ কেমন অসভ্য মানুষ? বিবাহিত জেনেও কুপ্রস্তাব দেয়। আজ ও আসুক।
আরিফ অফিসে দারুন ব্যস্ত। এখন লাঞ্চ আওয়ার। সারাদিনের কোলাহলে একটু নিশ্চুপ সময়। এখন রওয়ানা দিবে বাড়ির দিকে। নিজের অফিস বেশিদিন হয়নি গড়ে তোলার নাহলে আজ নিশ্চিত অফিস আসত না সে। এখন বৌয়ের কথা ভাবছে সে আর শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসছে তার। গালের কাটা দাগ ছাড়া আগের কোন স্মৃতির কথা অনেকেই ভুলে গেছে। এখন পুরোদস্তুর ভদ্র ছেলে আরিফ।
বাড়িতে এসেই থ হয়ে যায় আরিফ। গোটা বাড়ি হাসি আনন্দে ঝলমল করলেও পারুল কেমন যেন ফ্যাঁকাসে। বৌয়ের এই চেহারা অপরিচিত আরিফের। আরিফকে দেখে যেন চোখদুটো আরো জলের গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে পারুলের।
কি হয়েছে সোনা? একটু আড়ালে জিজ্ঞেস করতেই হু হু করে কেঁদে ফেলল পারুল। জীবনে প্রথম অভিযোগ করল তাও এমন একজনের বিরুদ্ধে মাথা ঘুরছে আরিফের। মনে পড়ল আরিফের তার বাবা যখন দুরসম্পর্কের কোন এক আত্মীয়ের সম্পর্ক তুলে ধরে পারুলকে ঘরে আনার কথা বলেছিল চিরদিনের লাজুক পারুল সেদিনও বাবাকে অভিযোগ দেয়নি আরিফ ইভটিজার। নিজেকে ভবিষ্যতের হাতে সঁপে দিয়েছিল।
সেই মেয়ে কোন দু:খে আজ অভিযোগ করেছে বুঝে আরিফ। পুরাতন আরিফ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তবেরে শালা।
রাত দশটার সময় অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডের ডিউটি ডাক্তার ১১ নং বেডের রোগীর ফাইলে লিখে রাখে রোগী অনুপস্থিত। রাত নয়টায় সে বেরিয়ে গেছে হাসপাতাল থেকে। সে হিসেব জানে বন্ধুর প্রতিটি কদমের। সে যে অফিস থেকে রাত বারোটার আগে ফেরে না তাও জানে। ধীরে ধীরে বন্ধুর বাড়ির গেটে এসে দাঁড়ায়। এত তাড়া ছিল না তার। বড় ডাক্তার বলেছিল আজকেই ছুটি দিবে। অনেক অনুরোধ করে একদিন সময় নিয়েছে সুমন। একটা প্লান মাথায় অনেক দিন ধরে ঘুরছে। একবার কোন মেয়ের দিকে নজর পড়লে তাকে তার চাইই যে করেই হোক। কেউই ভাববে না সুমন খারাপ তাই বাইরে একটা ভদ্রলোকের বেশ টানানো আছে। তার নজরের আওতায় একটা মেয়ে এখনো তার শিকার হতে বাকি আছে পারুল। প্রথম দিনই নজরে পড়েছিল সে। তার প্রথম শিকার আঠারো বছর বয়সে নিজের মামাতো বোন। অবশ্য এক্ষেত্রে অংকেও দারুণ পাকা হতে হয়। মামাতো বোন যেদিন পাশের বাড়ির ছেলের চিঠির কথা মামাকে বলে দেয় সেদিন মামা ঐ ছেলেটাকে দারুন বকাঝকা করে। সেদিনই মাঝ রাতে মামাতো বোনের বেডের নীচ থেকে বের হয় অন্য সুমন। শান্ত ধীর গন্তব্য সম্পর্কে সচেতন সুমন বিড়ালের মত এগিয়ে যায়। যে অপরাধের জন্য পাশের বাড়ির ছেলের মৃত্যুদণ্ড হয়। সুমনও পরেরদিন কেঁদেছিল খুব মামাতো বোনের শোকে। হাসি পাচ্ছে এখন। আরেকজনের কথা মনে পড়ছে অনন্যা। সত্যি ভালোবাসত তাকে মোবাইলে সম্পর্ক। কত কথা বলত মেয়েটা। একদিন ডেকে এনে হাহা হা অট্টহাসি দিতে ইচ্ছে করছে সুমনের। মেয়েগুলো এমন কেন? অল্পতেই পা ধরে।
দরজায় টোকা দিল সুমন। প্রথম দুইটা টোকা জোরে দিয়ে তৃতীয়টা একটু দেরিতে ধীরে আরিফের কোড। একদিন রাতে সুমনকে নিয়ে এসেছিল আরিফ এভাবে নক করেছিল সে। পারুল আসছে না। তবে কি কোড চেঞ্জ করেছে নাকি আরিফ আজ অফিস যায় নি? যে রাতে সুমন শিকারের জন্য বের হয় সেই রাতের নাম দিয়েছে ঘটনার রাত এই রাতে বিচলিত হতে নেই তবুও একফোঁটা ঘাম জেগে উঠছে কপালে।
হতভম্ব ডাক্তারটিকে পাশে সরিয়ে সজোরে থাপ্পড় দিল আরেক ডাক্তার।
জীবনে প্রথম এমন ভুল করল সুমন। রেপের পর পারুলের বেঁচে থাকাটাই কাল হয়েছে তার। পারুলের হাত পা বাঁধার পর বাবু কান্নাকাটি করলে তার গলা টিপে ধরে সুমন। এতক্ষণ সুমনের সাথে ধস্তাধস্তি করা পারুল নিমিষেই নীরব হয়ে যায় বাবুর সাথে সাথে। এমনকি রেপের সময়ও না। সুমন ভেবেছিল মরে গেছে তারপরও কিছুক্ষন বালিশ চাপা দিয়েছিল কিন্তু কোন নড়াচড়া নাই।
আইসিইউতে একবার মাত্র জ্ঞান ফিরেছিল পারুলের।
দুই জন ডাক্তার দুইবার মারলেও আরো একজন ডাক্তার সেদিন পাশে ছিল। কোন এক অজ্ঞাত কারনে তার হাত উঠেনি তৃতীয় ডাক্তার আমি নিজেই, পরে গল্প শুনেছিলাম তার নিজের জবানীতেই আর ভাবছিলাম মানুষের এত সুন্দর মুখাবয়ব এর ভিতরের আবরণ টির কথা।
লেখকঃ মোবাশ্বের আহমেদ


No comments:
Post a Comment
Thank you very much.