google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের পক্ষপাতপুষ্ট প্রশস্তি নয়, এক নিরপেক্ষ মূল্যায়নের প্রচেষ্টা মাত্র। - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Saturday, September 6

এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের পক্ষপাতপুষ্ট প্রশস্তি নয়, এক নিরপেক্ষ মূল্যায়নের প্রচেষ্টা মাত্র।

আমাদের দেশজোড়া ও প্রবাসী অগনিত প্রাহক, বিশেষ করে তরুণ পাঠকগোষ্ঠীর গভীর আগ্রহে সাড়া দিয়ে প্রায়শই আমরা দেশের নানা কৃতিজন ও আলোচিত জীবন কাহিনী প্রকাশ করে থাকি। সেই ধারা-বাহিকতায় বাংলাদেশের এক অনন্য ধনাঢ্য ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ব নন্দিত ফ্যাশন-রাজের অতি বৈচিত্রময় জীবন-আলেখ্য প্রকাশ হলো চিত্রবাংলার এ্ই চলতি সংখ্যায়। প্রসঙ্গত, বিশ্ব মিডিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে আমরাই প্রথম বহুল আলোচিত মহানায়ক ড. মূসা বিন শমশেরের বর্নাঢ্য জীবন-কাহনী নিয়ে দুই যুগ আগে চাঞ্চল্যকর এক প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশ করি। যা আমাদের লক্ষকোটি পাঠকের হৃদয় দারুণভাবে আলোড়িত করেছিল। চিত্রবাংলাকেও করেছিল আলোকিত। এ বিরল বঙ্গ সন্তানের গৌরবময় জীবন বিচিত্রা বিশ্ব-সংবাদ মাধ্যমে নানা সূত্রে প্রধান শিরোনামে ফলাওভাবে আলোকিত হয়েছে। কিংবদন্তিসম এই বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব হলেন ড. মূসা বিন শমশের অন্য কথায়, সম্মানিত প্রিন্স মুসা। অসংখ্য দেশী বিদেশী পত্র-পত্রিকায় তাঁর উপর প্রকাশিত হাজার হাজার প্রবন্ধ-প্রতিবেদনের কিয়দাংশ চয়নমূলে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। পেশাগত সব গুণীন সহযোগীদের ভাষ্য ভিত্তিক এই সংখ্যাটি রচিত হলেও এ বিষয়ে আমাদের কিছুটা ঝুকি রয়েছে। তবে আমাদের সম্মানিত পাঠককুলের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির আলোকেই আমরা এই বিশেষ উদ্যোগে ব্রতী হয়েছি।

[caption id="" align="alignleft" width="520"] বাংলাদেশ আজ গৌরবান্বিত যে, লন্ডন, মস্কো, ওয়াশিংটনে বসে শক্তিধর যাঁরা বিশ্ব-ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন তাঁদের সবাই এই বিরল বঙ্গ সন্তানের একান্ত বন্ধু ও অনুরাগী। চলতি সংঘর্ষময় পৃথিবীতে তিনি তাঁদের কাছে এক অনন্য ঐক্যের প্রতীক: বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত।[/caption]

এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের পক্ষপাতপুষ্ট প্রশস্তি নয়, বরং এক আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান মানুষের বাস্তব জীবন ও তাঁর অবিশ্বাস্য কীর্তি-কর্মের এক নিরপেক্ষ মূল্যায়নের প্রচেষ্টা মাত্র। ৫০ দশকের মাঝামাঝিতে জাতিসংঘের এক উধর্্বতন কর্মকতা, ডঃ ওয়েন এক সরকারী সফরে এসেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। তিনি বিশ্ব সংস্থায় ফিরে গিয়ে তার দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতার উপর এক প্রতিবেদন লিখে ছিলেন। তিনি তার এক মন্তব্যে বলেন, "পূর্ব পাকিস্তানীদের জীবন একটি জংলী আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এবং তারা কলকাতাকে তাদের সাংস্কৃতিক-মক্কা বলে মনে করে।" তার এই হটকারীপূর্ণ কটুক্তি বিশ্বের এই অঞ্চলে এক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। কিন্তু বিশ্ব-সংস্থা কিংবা অন্য কোন সূত্রে এ অঞ্চলের লক্ষ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে ছুঁেড় দেওয়া সে মিথ্যা অপবাদের জন্য কোন ক্ষমা কিংবা দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি। প্রায় দুই দশক পরে ১৯৭৪ সনে বাংলাদেশে যখন খাদ্য ঘাটতিতে দুর্ভিক্ষের প্রাদর্ুভাব ঘটে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার দুর্ভিক্ষ পীড়িত এ দেশকে দারুণভাবে উপহাস করে এক মন্তব্য করেন: "বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি।" দুর্ভাগ্যবশতঃ, অদ্যাবধি যেন দেশেটি এ ধরনের অপমানজনক ধিক্কার বয়ে চলেছে। অবশ্য, পরবর্তীকালে হেনরী কিসিঞ্জার তার দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য সম্পর্কে আমতা আমতা করেছিলেন।

৭০ দশকের মাঝামাঝিতে বহির্বাণিজ্যিক বিশ্বের ঘনিষ্ট সব মহল প্রাচ্যের এক স্বল্প বয়সী যুবকের ধুমকেতুসম বাণিজ্যিক উত্থান লক্ষ্য করে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছিল। সৌদি আরব এবং কাতারে প্রবাসী এক খ্যাতিমান বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীর উত্থান সত্যিই উল্কার মত ঝলকে উঠেছিল। আরব্য রজনীর গল্প-কাহিনীসম তাঁর বিস্ময়কর জীবন-কথা নিয়ে রচিত উপাখ্যান ৮০ দশকের বিশ্ব-গণমাধ্যমে বারংবার শিরোনামে ছাপা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে দারুণভাবে সাড়া জাগানো বাংলাদেশী এই খ্যাতিমান অস্ত্র-ব্যবসায়ী যেন রূপকথার রাজপুত্রের মর্যাদাই লাভ করে দেশ মাতৃকার ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল করে তোলেন। অত্যাশ্চার্য্য ও কীর্তিমান এই ভাগ্যবান পুরুষই ডঃ মুসা বিন শমসের। তিনি ইত্যবসরে পৃথিবীর সব অতি শক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক মহৎ ব্যক্তিবর্গ ও চলতি জগতের রাজন্যবর্গের অতি প্রিয় সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হয়ে তাদের মহান সানি্নধ্যে চলে আসেন। তাঁর এই বিশ্বজোড়া 'কারিশ্মা' বা ব্যক্তিগত আলোকময ভাবমূর্তির সৌজন্যে তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশ মর্যাদার ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ লাভ করে। ডঃ মুসা দীর্ঘ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনন্য বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে দেশের জন্য কোটি কোটি ডলার অর্জন করে বৈদেশিক মুদ্রার এক নতুন প্রবাহের সৃষ্টি করেন। দেশের জাতীয় তহবিলে এটা তাঁর অভূতপূর্ব অবদান। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে যায়, ফলে, দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটে। যা দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। জনকল্যানে নিবেদিত প্রাণ ড. মূসা দুযের্াগ-পীড়িত মানুষের পাশে বারংবার তাঁর উদার হস্ত সমপ্রসারণ করেন এবং তাদের মুখে হাসি ফুটাবার আপ্রান চেষ্টা করেছেন। এভাবেই তিনি ক্ষান্ত হননি। দেশের লক্ষ-কোটি দরিদ্র কৃষকের অশেষ কল্যানার্থে তিনি তাঁর বিশিষ্ট ইউরোপীয় সহযোগীদের সৌজন্যে এক বিপুল কৃষি উপকরণের অনুদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজ মাতৃভূমির শত বর্ষের হত দরিদ্র কৃষকদের ভাগ্যের আমুল পরিবর্তন ঘটানো। কিন্তু তাঁর সেই মহৎ প্রচেষ্টা অজ্ঞাত কারণে ব্যর্থ করে দেয়া হয়। তবে তাঁর স্বার্থক উদ্যোগে বাংলাদেশের হাজার হাজার যুবক বিদেশী সব কোম্পানীতে কর্মসংস্থান পেয়ে দেশের অর্থনীতিতে অশেষ অবদান রেখে চলেছে। প্রবাসী এসব বাংলাদেশীদের সৌজন্যে দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক শুভ প্রতিফল দেখা দিয়েছে ।

সামপ্রতিক তিনি বাংলাদেশের শিক্ষিত ও পেশাদার নর-নারীদের জন্য ইটালীতে কাজের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ডিপ্লোমা নার্সিং কাউন্সিলের সনদ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরই সৌজন্যে দেশের নার্সদের ইতালী ছাড়াও অন্যসব ইউরোপীয় দেশে কর্ম-সংস্থানের পথ সুগম হয়েছে। ফলতঃ বাংলাদেশী জনশক্তির জন্য ইউরোপীয় স্বর্ণ-দ্বার ডঃ মুসার আপ্রান প্রচেষ্টায় আজ উন্মোচিত। আজ বিশ্বের গণমাধ্যম ধনকুবের ও ফ্যাশন-রাজ ডঃ মুসার গুন-কীর্তনে স্বর-গরম বটে। তাতে নিঃসন্দেহেই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অতি উজ্জ্বল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ আজ গৌরবান্বিত যে, লন্ডন, মস্কো, ওয়াশিংটনে বসে শক্তিধর যাঁরা বিশ্ব-ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন তাঁদের সবাই এই বিরল বঙ্গ সন্তানের একান্ত বন্ধু ও অনুরাগী। চলতি সংঘর্ষময় পৃথিবীতে তিনি তাঁদের কাছে এক অনন্য ঐক্যের প্রতীক ঃ বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত ।

অস্বীকার করার জো নেই, ডঃ মুসাকে একজন রহস্যময় ব্যক্তি হিসেবে মহল বিশেষ গন্য করে থাকে। আমাদের এ প্রাচ্য-সমাজে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের স্বীকৃতি প্রথাগতভাবে শোক বার্তার প্রকাশে সমাপ্তি ঘটে; ফলস্বরূপ প্রাচ্যে মেধা শক্তির বিকাশ অতি নু্যন। তাই, বাংলাদেশের এক বড় মাপের ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞান তাপস ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অনুশোচনা করে সঠিকভাবেই বলেছেন, "যে দেশে প্রতিভাবানদের স্বীকৃতি নেই, সে দেশে প্রতিভার কচিৎ আবির্ভাব ঘটে।"

প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলাসহ পশ্চিমা দেশের প্রায় সব রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ডঃ মূসা এক অতি সম্মানিত ও আদৃত ব্যক্তিত্ব। এশিয়ার অনেক দেশেই তাঁর এমনি মর্যাদাবান অবস্থান রয়েছে। এটা দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রকৃত মূল্যায়নের অভাবে তিনি এখনও স্বদেশে এক বিরাট রহস্য স্বরূপ। আমরা আশা করছি এই রহস্য ঘেরা বিরাট ব্যক্তিত্বকে যথার্থ মূল্যায়নের জন্য আমাদের চলতি বিশেষ সংখ্যাটি একটি আলোকময় জানালা খুলে দিবে। ভবিষ্যতে আমরা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতি-সন্তানদের নিয়ে অনুসন্ধানী লেখা, প্রবন্ধ-প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করছি ।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.