google-site-verification: googlefee13efd94de5649.html নিজের চিকিৎসা নিজে করার ১০ উপায় - তারুণ্যের কন্ঠস্বর

HeadLine

News Update :

Monday, October 6

নিজের চিকিৎসা নিজে করার ১০ উপায়

সুস্থ থাকতে হলে চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে। তবে একটু সচেতন থাকলে নিজেরাই অনেক রোগের ইঙ্গিত পেতে পারি, অন্তত রোগটি মারাত্মক হওয়ার আগেই চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি।

১.টাটকা, ব্যায়াম, বিনোদন, আঁশ প্রতিদিন
নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন চারটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখুন : ফলমূল ও সবজি (টাটকা) খেলেন কি না; হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক শ্রম করলেন কি না (ব্যায়াম); অন্তত ১৫ মিনিট হাসাহাসি কিংবা আনন্দ করলেন কি না (রিলাক্স বা বিনোদন); মটরশুঁটি, শিমবীজ, শস্য ইত্যাদির মতো উচ্চমানের আঁশযুক্ত পর্যাপ্ত খেয়েছেন কি না। এই চারটি বিষয় যদি আপনি ঠিকমতো করে থাকেন, তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন, আপনি অত্যন্ত স্বাস্থ্যবান। (এ কথা বলার প্রয়োজন নেই যে, আপনি যদি দিনের অবশিষ্ট সময় মদপান, ধূমপান বা চকোলেট খেয়ে থাকেন, তবে ওই দাবি আপনি করতে পারবেন না।)    

২.দুই বা তিন মাস পরপর সারা শরীরে তাকান
আপনার স্ত্রী, স্বামী বা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধুকে দিয়ে মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের চামড়া পরীা করান। দেখুন কোথাও নতুন কোনো তিল বা আঁচিলের সৃষ্টি হয়েছে কি না, আগের তিলের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না বা শরীরে নতুন কোনো দাগ দেখা যাচ্ছে কি না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনার মাথার খুলি, হাত ও পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো, বগলের নিচের মতো জায়গাগুলোও যত্নের সাথে লক্ষ করুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন।
আঁচিল বা তিল পরীক্ষার সময় এবিসিডি (ABCD) পরীক্ষা করুন। সম্ভাব্য বিপজ্জনক চিহ্নগুলো হচ্ছে :
সামঞ্জস্যের অভাব (Asymmetry) : দুই অর্ধ মিলবে না।
প্রান্তগুলোতে অনিয়ম (Border irregularity) : প্রান্তগুলো হবে খসখসে।
বর্ণ (Colour) : অন্য রঙ লাল, কালো, বাদামি, গোলাপি ইত্যাদি দেখা যাবে।
ব্যাস (Diameter) : আয়তনে হবে ৬ মিলিমিটারের বেশি।

৩.আপনি কতক্ষণ ঘুমান
আপনার ঘুম পর্যাপ্ত হচ্ছে কি না তা যাচাইয়ের তিনটি সহজ পন্থা রয়েছে। প্রথমত, বেশির ভাগ সকালে কি ঘুম থেকে জাগতে অ্যালার্ম ঘড়ির সাহায্য নিতে হয়? দ্বিতীয়ত, বিকেলের দিকে কি আপনার ঝিমুনি আসে বা কাজে জড়তা অনুভব করেন? তৃতীয়ত, রাতের খাবারের পরপরই কি আপনার ঘুম ঘুম ভাব আসে? এই তিনটি প্রশ্নের কোনো একটি জবাবও যদি হ্যাঁ হয়, তবে বুঝবেন, আপনার আরো ঘুমের প্রয়োজন। আর আপনি যদি পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে থাকেন (প্রায় আট ঘণ্টা) এবং তার পরও এসব সমস্যায় পড়েন, তবে বুঝবেন আপনার কর্মক্ষমতায় স্বল্পতা রয়েছে, আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

৪. পঞ্চাশ এর পর প্রতি বছর উচ্চতা মাপুন
দৈহিক অবয়ব ও কাঠামোর স্বাস্থ্য যাচাইয়ের, বিশেষ করে নারীদের, এটা একটা ভালো পন্থা। যদি মনে হয়, খাটো হয়ে যাচ্ছেন, তবে বুঝবেন আপনার হাড়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। চিকিৎসকের সাহায্য দরকার হতে পারে।

৫. প্রস্রাবের বর্ণের দিকে লক্ষ রাখুন
অদ্ভুত মনে হলেও স্বাস্থ্যগত তথ্যের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। আপনার প্রস্রাব হওয়া উচিত পরিষ্কার ও ফেকাসে হলুদ বর্ণের। যদি তা গাঢ় ও তীব্র গন্ধযুক্ত হয়, বুঝতে হবে আপনি পর্যাপ্ত তরল পদার্থ পান করছেন না। তরল গ্রহণ বাড়িয়ে দেয়ার পরও যদি সেটা একই রকম থাকে, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন। আপনার প্রস্রাব যদি উজ্জ্বল হলুদ বর্ণে হয়, তবে তা হতে পারে মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেটে থাকা বি-ভিটামিনের জন্য (যদি আপনি সেটা গ্রহণ করে থাকেন)।

৬. ব্যায়ামের পর হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করুন
জার্নাল অব দ্র আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এ প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, যেসব নারীর ব্যায়ামের পর দুর্বল হার্ট রেট রিকভারি (এইচআরআর) দেখা যায়, তাদের ১০ বছরের মধ্যে এইচআরআর স্বাভাবিকদের চেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ বেশি থাকে। ২০ মিনিট হাঁটা বা জগিং করার মতো ব্যায়ামের পরপরই ১৫ সেকেন্ড আপনার হার্টবিট গণনা করুন। যে সংখ্যাটি পাবেন সেটাকে চার দিয়ে গুণ করুন। এবার দুই মিনিট চুপচাপ বসে আবার হার্টবিট গণনা করুন। এবার প্রথম সংখ্যা থেকে দ্বিতীয়টি বিয়োগ করুন। নতুন সংখ্যাটি যদি ৫৫-এর নিচে থাকে, তবে আপনার এইচআরআর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

৭. ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন
ডায়াবেটিস রোগীদের পা রাখতে হবে সুস্থ ও সবল। তাই পায়ে কোনো ধরনের ফোসকা, ছত্রাক (ফাঙ্গাস), ছেঁড়া, কাটা বা দাগ আছে কি না পরীা করুন। কারণ ডায়াবেটিস রোগীদের পা বা দেহের অন্য কোনো প্রান্তের কোনো স্নায়ু বিকল হয়ে যেতে পারে। তাই রক্তের সুগার পরিমাপের মতো নিয়ম মেনে পা পরীা করে আগেই জেনে নিন, আপনার স্নায়ুব্যবস্থা ঠিক আছে কি না।

৮. হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করুন
ভবিষ্যতের যেকোনো ধরনের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ৪০-এর পর আপনার চিকিৎসককে বলুন আপনার হৃৎপিণ্ড ও রক্তসংবহনতন্ত্রকে পুরোপুরি পরীা করতে। আপনার পরিবারের কারো যদি হৃদরোগ বা স্ট্রোক হয়ে থাকে, তবে ৪০ বছরের আগেও পরীা করাতে পারেন। রক্তের কলেস্টেরলের মাত্রাও পরীা করবেন। তা ছাড়া ধূমপান, রক্তে গ্লুকোজ, ইসিজি, রক্তচাপ ইত্যাদিও হিসাবে রাখুন। শুধু কলেস্টেরলের হিসাব দিয়েই ঝুঁকিমুক্ত থাকা যাবে না। কলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকা মানে এই নয়, আপনার কার্ডিওভাসকুলারব্যবস্থা স্বাভাবিক।

৯. ছয় মাস পরপর রক্তচাপ মাপুন
বাসায় কিংবা ক্লিনিকে গিয়ে রক্তচাপ মাপুন। সর্বোচ্চ সংখ্যাটি যদি ১৪০-এর বেশি (ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ১৩০) ও নিম্ন সংখ্যাটি যদি ৯০-এর বেশি হয় (ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ৮০), তবে এক দিন অপেক্ষা করে আবার পরীক্ষা করুন। তখনো সংখ্যাগুলো বেশিই থাকে, তবে চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন।

১০. চিরুনি পরীক্ষা করুন
আপনার চুল পড়ে যেতে থাকলে আপনার চিকিৎসককে বলুন আপনার রক্তের পেরিটিন পরীক্ষা করতে। আপনার দেহের লোহার পরিমাণ জানাবে এই পরীক্ষা। অনেক সমীায় দেখা গেছে, লোহার স্বল্পমাত্রায় চুল পড়ে। থায়রয়েড রোগেও চুল পড়তে পারে।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much.